নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে বর্ষাকালীন লার্ভা জরিপ শুরু হয়েছে। ১২ দিনব্যাপী এ জরিপে প্রতিটি ওয়ার্ডের ৩০টি করে মোট দুই হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তবে মাঠপর্যায়ে জরিপ শুরু হয়েছে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এটি চলবে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত বাড়িগুলোতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি ও প্রজননস্থল খুঁজে দেখা হবে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির ১০টি অঞ্চলের কোন কোন এলাকায় মশার প্রাদুর্ভাব বেশি এবং লার্ভার প্রধান উৎস কী, তা চিহ্নিত করা হবে।
জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী কাজ করছেন। তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘কোবো টুলবক্স’ অ্যাপ্লিকেশন। জরিপ শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI) নির্ধারণ করা হবে।
এর মধ্যে ব্রেটু ইনডেক্সের ভিত্তিতে এলাকাগুলোর ডেঙ্গুর ঝুঁকি তিন ভাগে চিহ্নিত করা হবে। কোনো এলাকায় সূচক ২০ বা তার বেশি হলে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ, ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০ এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
জরিপে যেসব এলাকা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হবে, সেখানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে ডিএসসিসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই জরিপ ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশেপাশে জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাক-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পাওয়া গেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশেপাশের জায়গায় যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
এর আগে ডিএসসিসির বর্ষাপূর্ব জরিপে ৬৩টি ওয়ার্ডে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে ডিএসসিসি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এফএ