২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ তানিয়া আক্তার (১৭) মারা গেছেন।
এর আগে, একই ঘটনায় তার মামাতো ভাই ইমন (২৫) ও মামা সিদ্দিক বেপারী (৫৫) মারা যান। ফলে তানিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
এ ছাড়াও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুজন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানিয়ার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সূত্রাপুরের শ্যামবাজারের অগ্নিকাণ্ডে তানিয়ার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তানিয়ার মামা সিদ্দিক বেপারী। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
এরও আগে, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মারা যান সিদ্দিকের ছেলে ইমন। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এলাকার পৈতৃক সম্পত্তিতে তারা পাশাপাশি বসবাস করেন। শুক্রবার বাসার সামনে জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কার করা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুলতানা বিষয়টি মোবাইল ফোনে ইমনকে জানালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমিও মরব, তোদেরকেও মারব।’
এরপর তিনি নিজের কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কক্ষে থাকা সবাই দগ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ইমনের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমান ধলু ওরফে আরিফের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়।
বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাজিব ও আরিফুর রহমান ধলু ওরফে আরিফ। তাদের শরীরের যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ও ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
চিকিৎসকদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাদের দুজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
এমএমআর/এএম