২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা থানা এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পৃথক ঘটনায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুজনই আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাড্ডা থানার সাতারকুল জিএম বাড়ি খালপাড় এলাকার একটি বাসা থেকে মো. সাগর (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে জিএম বাড়ি খালপাড়ের ৯ নম্বর বাসার ৬ নম্বর রোডের আল-বারাকা হাউসের পঞ্চম তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সাগর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার আলাইয়ারপুর গ্রামের মো. হারুনুর রশিদের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন এবং কোনো চাকরি বা পেশায় যুক্ত ছিলেন না।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম খান পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, সাগর দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব, হতাশা ও মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। বুধবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তার স্ত্রী তাকে হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখেন। পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুরের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, ভাটারা থানাধীন ঢালীবাড়ি কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ইমন (২০) নামে আরেক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢালীবাড়ি কাঁচাবাজার সংলগ্ন সিরাজুল ইসলামের ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইমন নোয়াখালীর সেনবাগ থানার আহম্মেদপুর গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন এবং একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ইমনের বাবা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বাইরে বের হন। পরে ফিরে এসে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইমন মানসিকভাবে হতাশায় ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনাই প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এমআর/এএম