নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরতলি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই করতে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ অর্থ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে থাকা ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নে ব্যয় করা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে নেওয়া এই প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত লোডে থাকা সাবস্টেশন সংস্কার, পুরোনো অবকাঠামো আধুনিকায়ন, কারিগরি অপচয় বা সিস্টেম লস কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এতে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং নেটওয়ার্ক সংকট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এডিবি জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল বছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০০০ অর্থবছরে ৪৯ শতাংশ থেকে ২০২২ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে।
এডিবি জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৫২টি নতুন সাবস্টেশনে মোট ১ হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের ক্ষমতা আরও ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে।
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। এসব কাজে আধুনিক ইনসুলেটেড পরিবাহী ব্যবহার করা হবে। দ্রুত লাইনের ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের জন্য ৯০০টি আধুনিক ফল্ট লোকেটর স্থাপন করা হবে। নদীর ওপর টাওয়ার ও আধুনিক সুইচিং স্টেশনও নির্মাণ করা হবে।
আরও পড়ুন
৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে বসবে সোলার প্যানেল, ব্যয় ৩৭০ কোটি টাকা
সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর কমাল এনবিআর
বাংলাদেশ ২০২২ সালে সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করলেও দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের কারণে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে। প্রকল্পটি কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়তা করবে।
এ জন্য এডিবি প্রায় ১৪৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ সহনশীলতা অর্থায়ন দিচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতেও প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থা একীভূতকরণ, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পে নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রকল্পটির মোট অর্থায়নের মধ্যে এডিবি দেবে ২০০ মিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১০৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১৪১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। এছাড়া কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সহায়তা দেওয়া হবে।
এএইচ/জেবি