Dhaka Mail Logo

জাতীয়

শাহজালালে প্রবাসীকে মারধরের বিষয়ে যা জানাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এক্সিট গেটের বাইরে কিছু লোকের সঙ্গে আসনার সদস্যদের মারামারির একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হচ্ছে প্রবাসীকে মারধর করেছেন বিমানবন্দরের দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘আসলে ঘটনাটি তেমন নয়। প্রকৃত ঘটনা ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা কর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে তাকে বাধা দিলে তিনি আসনার সদস্যদের ওপর চড়াও হন এবং হামলা করেন। কিন্তু এই ঘটনাকে সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে।’

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫২ মিনিটে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি অংশ মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পুরো ঘটনাটি কী ঘটেছিল তা ওঠে এসেছে বিমানবন্দরের সিসি টিভি ক্যামেরায়।

‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময়ে একজন আগমনি যাত্রী ক্যানোপি-২ দিয়ে বের হওয়ার সময় তাকে গ্রহণ করতে আসা একজন পুরুষ সহযাত্রী ক্যানোপি-২ এক্সিট গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রী চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে কর্তব্যরত আনসার সদস্য তাঁকে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং বাধা প্রদান করেন। এরপরও ওই ব্যক্তি একাধিকবার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্তব্যরত আরেকজন আনসার সদস্য তাঁকে নিবৃত্ত করার জন্য এগিয়ে আসেন।’

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এরপর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আসা অন্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার ওই পর্যায়ের একটি অংশ সেখানে উপস্থিত একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।’

‘তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ঘটনার পূর্ববর্তী পরিস্থিতিসহ পুরো ঘটনাপ্রবাহ দেখা যায়। এতে দেখা যায়, নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে একাধিকবার প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার পরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয়’, ঘটনার ব্যাখ্যায় বলে কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও বলে, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীকে গ্রহণ করতে আসা স্বজন ও দর্শনার্থীদেরও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রটোকল, নির্ধারিত প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থার নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলা উচিত। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের নয়; যাত্রী, স্বজন, দর্শনার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। পারস্পরিক সম্মান, ধৈর্য ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

‘একইভাবে, কোনো ঘটনার আংশিক বা খণ্ডিত ভিডিও দেখে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব কিংবা অনুমাননির্ভর বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। অনিচ্ছাকৃতভাবেও ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং জনমনে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে’, যোগ করে কর্তৃপক্ষ।

এমআইকে/এএম