নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
রোগ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার পর শুধু তা মোকাবিলা না করে আগেই ঝুঁকি শনাক্ত, প্রশমন ও প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ জন্য সমন্বিত নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্লেনারি হলে ‘ওয়ান হেলথ ফর এ বেটার লাইফ: ফ্রম ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টু রেজিলিয়েন্ট অ্যাগ্রিফুড সিস্টেমস অ্যান্ড সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর কেবল প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে ঝুঁকি আগাম শনাক্ত, প্রশমন ও প্রতিরোধ করতে হবে। এর মাধ্যমে সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা ও টেকসই জীবিকা গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে শুধু নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যক্রম এবং পরিমাপযোগ্য ফলে রূপ দিতে হবে।
মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য, প্রতিবেশ এবং পরিবেশ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একটি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঝুঁকি দ্রুত অন্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের খাদ্য ও জীবিকা ব্যবস্থা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, ওয়ান হেলথ শুধু স্বাস্থ্য খাতের কর্মসূচি নয়। এটি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, খাদ্যনিরাপত্তা, সহনশীল জীবিকা ও টেকসই উন্নয়নকে একসঙ্গে যুক্ত করার একটি সমন্বিত পদ্ধতি।
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। ঝুঁকির ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তুতিও পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য সমন্বিত নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জৈব নিরাপত্তা এবং পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রোগের উদ্ভবের পেছনে পরিবেশগত, প্রতিবেশগত ও আর্থসামাজিক কারণগুলো আরও গভীরভাবে বুঝতে হবে।
বাংলাদেশের ওয়ান হেলথ কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১২ সালে গৃহীত জাতীয় ওয়ান হেলথ কৌশলগত কাঠামোর ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ওয়ান হেলথ কৌশলগত কাঠামো ২০২৫-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থা ও ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
জলবায়ু সহনশীলতাকে স্বাস্থ্য সহনশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে ওয়ান হেলথের অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এখন জাতীয় সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যকর প্রস্তুতির জন্য পুরো সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, বহুখাতীয় সহযোগিতা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
এফএওসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতার প্রশংসা করে পরিবেশমন্ত্রী মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিকে সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা, টেকসই জীবিকা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশভিত্তিক সমাধান, জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জ্ঞান স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, জাতীয় উদ্যোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ওয়ান হেলথ এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওয়ান হেলথকে নীতি থেকে কার্যক্রমে এবং কার্যক্রম থেকে পরিমাপযোগ্য ফলে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্যানেল আলোচনায় নাইজেরিয়ার পশুসম্পদমন্ত্রী ইদি মুখতার মাইহা, রোমে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক মিনিস্টার-কনস্যুলার ডগলাস হোয়েলশার, থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-স্থায়ী সচিব সোপন ইয়ামসিরিথাওর্ন এবং ইসলামিক অর্গানাইজেশন ফর ফুড সিকিউরিটির পরিচালক মেমদুহ উনাল অংশ নেন।
এ সময় ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হকসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এএম