Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

রাজধানীর যেসব এলাকায় মানুষের বসবাস তুলনামূলক কম, সেসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করায় লার্ভার উপস্থিতির তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংস অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব এলাকায় মানুষের বসবাস কম, সেখানে মশার লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এসব স্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে এক্ষেত্রে সফলতা এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির নিয়মিত অভিযান চলছে। সরকারি অফিস-আদালত, তথ্য ভবন, মার্কেটসহ যেসব স্থানে মানুষের চলাচল কম এবং পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গায় লার্ভা শনাক্তে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হচ্ছে।

মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো কর্মীর গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইতোমধ্যে দুই কর্মীর গাফিলতি পাওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, ব্যবহারের আগে ল্যাবরেটরিতে ওষুধ পরীক্ষা করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অনুমোদনের পরই তা ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনে সরকারি অনুমোদিত ল্যাবরেটরির পাশাপাশি আরও কয়েকটি ল্যাবরেটরিতেও ওষুধ পরীক্ষা করা হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নগরবাসী সহযোগিতা করলে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন ধরনের লিফলেট ছাপিয়ে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে একটি খোলা চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

মশা নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল ট্র্যাপ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালেও এসব ট্র্যাপ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ যেসব স্থানে প্রয়োজন বেশি, সেখানে এগুলো ব্যবহার করা হবে।

অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, সংরক্ষিত নারী আসন-১৬-এর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশারসহ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এফএ