নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো ব্যক্তি বা দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া যেমন জরুরি নয়, তেমনি কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, অন্যের মত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত ‘Bangladesh Jamaat-e-Islami: Its History and Politics’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাকের এই বইটিকে শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয়, বরং একজন মানুষের জীবনদর্শন ও সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বলে বর্ণনা করেন আইনমন্ত্রী।
বইটির আলোচনায় উঠে আসা রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজ থেকে প্রাপ্ত ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।
নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গও টানেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার (রাজ্জাক) অবস্থান এবং জাতির কাছে দেওয়া বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত।
সাংগঠনিক পদের চেয়ে আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত অবস্থান অনেক দৃঢ় ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল পদে থাকলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শ নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিল। সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল।
মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালাতে তিনি উৎসাহিত করতেন বলেও জানান আসাদুজ্জামান। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়টিকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতেন রাজ্জাক।
লন্ডনে আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চা পানের স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বইটি পড়ার পরামর্শও দেন তিনি।
ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) প্রকাশিত এ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রিয়াজ, ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘রাইট টু ফ্রিডম’ এর প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর ও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।
আরএনবি/এফএ