শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
চাকরি মেলা ও সেমিনারে আইনমন্ত্রী। ছবি: ঢাকা মেইল

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংশোধনীটি মূলত বয়োবৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।

হেবা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীতে হেবা বা অন্য কোনো ধর্মীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়নি।

আইনটি না পড়ে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংশোধিত আইনটি পড়ে দেখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত ‘ক্ষুদ্রঋণ খাতে কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার ও চাকরি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই সংশোধনী মূলত বয়োবৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। এটি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলছেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে হেবা আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। কিন্তু হেবা আইন স্পর্শ করার ক্ষমতা কারও নেই। ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—হেবা বা অন্য কোনো ধর্মীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ আইন কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

আরও পড়ুন

সংসদে পিতা-মাতার সম্পত্তি রক্ষার বিল পাস, ‘হেবা’ নিয়ে তুমুল বিতর্ক

অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে মাইক্রোক্রেডিট খাতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা সাড়ে তিন লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ভাতা ও যুব উন্নয়ন কার্ডের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

দিনব্যাপী আয়োজিত চাকরি মেলায় ৩৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় ২০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১১৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে নির্বাচিত চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন আইনমন্ত্রী।

এমআরএর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তার এবং আরআরএফের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস।

প্রতিনিধি/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর