Dhaka Mail Logo

জাতীয়

পাহাড়ে ‘আমলা ও গোয়েন্দানির্ভর’ কর্মকৌশল ব্যর্থ হতে বাধ্য: ইউপিডিএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

নবগঠিত বিএনপি সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটিগুলোকে ‘আমলা, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্ভর’ আখ্যা দিয়ে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

পাহাড়ে দীর্ঘদিনের গণদাবি ‘অপারেশন উত্তরণ’ প্রত্যাহার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে বলেও দাবি করেছে দলটি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত খীসা সরকারের নতুন এই উদ্যোগের প্রতি সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমস্যা নিরসনে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বিবৃতিতে প্রসিত খীসা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ‘রাজনৈতিক সমস্যাকে’ সরকার দেশের সাধারণ আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সরকার সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে।

দীর্ঘদিনের গণদাবি উপেক্ষিত হয়েছে মন্তব্য করে এই ইউপিডিএফ নেতা বলেন, পাহাড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ‘অপারেশন উত্তরণ’ এবং ‘১১ দফা নির্দেশনা’ প্রত্যাহারের যে দাবি পাহাড় ও সমতলের মানুষের ছিল, তা এই উদ্যোগে উপেক্ষিত হয়েছে।

নবগঠিত কমিটিগুলোর গঠন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কমিটিগুলোতে পাহাড়িদের প্রথাগত নেতা তথা রাজা, হেডম্যান ও কারবারিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বদলে সরকারের মনোনীত জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং আমলাদের ওপর অত্যধিক নির্ভর করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বাধ্য।

বিবৃতিতে সেনা ও সেটলার প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সরকারকে সতর্ক করে প্রসিত খীসা বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করে ‘সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনের’ নামে যদি আশির দশকের সামরিক শাসকদের মতো বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করা হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ে অস্থিরতা বাড়াবে। যা পরিস্থিতিকে অলঙ্ঘনীয় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে এবং জাতিগত দূরত্ব আরও বৃদ্ধি করবে।

আরএনবি/এফএ