Dhaka Mail Logo

জাতীয়

বন্যপ্রাণী পাচারের নেটওয়ার্ক ভাঙতে যৌথ অভিযানের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ এএম

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ এবং যৌথ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মানে না। সীমান্ত, পরিবহন ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধী চক্র আন্তঃদেশীয় বন্যপ্রাণী পাচার চালাচ্ছে। এসব অপরাধ দমনে তাই দেশগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের (এসএডাব্লিউইএন) প্রথম সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী জব্দ ও অপরাধী গ্রেফতারের মধ্যেই আইন প্রয়োগ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এসব অপরাধের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত, তদন্ত এবং নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি বন্যপ্রাণী জব্দের ঘটনাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। বন্যপ্রাণী কোথা থেকে এসেছে, কোন পথে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কে অর্থায়ন করেছে এবং কোথায় পাঠানো হচ্ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। এর মাধ্যমে পাচারের সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

অনলাইনভিত্তিক বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় অনলাইন মনিটরিং, সাইবার তদন্ত এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী। বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় আইন অনুযায়ী আর্থিক তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং মানি লন্ডারিংবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময় জোরদার করা প্রয়োজন।

উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং জব্দ করা জীবন্ত বন্যপ্রাণীর নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এসএডাব্লিউইএন-এর কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত কৌশলগত পরিকল্পনা এসব অগ্রাধিকারকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য আঞ্চলিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ এমন একটি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগ, ফৌজদারি বিচার, ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্ত, বিজ্ঞান ও ফরেনসিক, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণীর চাহিদা কমানোর বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, এসএডাব্লিউইএন-এর প্রথম সাধারণ পরিষদ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাঠমান্ডু থেকে সদস্য দেশগুলো আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা, বাস্তবভিত্তিক যৌথ কার্যক্রম এবং বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার নিয়ে ফিরবে।

বাংলাদেশ এসএডাব্লিউইএন-এর সব সদস্য দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী, আন্তঃসংযুক্ত ও কার্যকর আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন পরিবেশমন্ত্রী।

সম্মেলনে নেপালের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল, নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী, এসএডাব্লিউইএন-এর মহাসচিব ড. কৃষ্ণ প্রাসাদ আচার্য এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এআরএম