Dhaka Mail Logo

জাতীয়

কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা নিচ্ছে ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

রাজধানীর সড়কে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী কোনো যানবাহন দেখলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, গত জুলাই মাসে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা করা হয়েছে। এসব যানবাহনের বেশিরভাগই বাস ও কাভার্ডভ্যান।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন অহরহ চলাচল করছে। গাড়ির ফিটনেস বা মান নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তবে কোনো যানবাহন আইন ভঙ্গ করলে ট্রাফিক পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেয়।

আনিছুর রহমান বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে গাড়িগুলো ফিটনেস সনদ নেয়। সাধারণত ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকলে গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের কারণেও ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কালো ধোঁয়া তৈরি হতে পারে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন শনাক্ত করতে আলাদা কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া খালি চোখেই দৃশ্যমান। তাই দৃশ্যমানভাবে কালো ধোঁয়া নির্গমন করতে দেখা গেলে সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

মেট্রোরেলের নিচে ফিরেছে শৃঙ্খলা, হকারমুক্ত ফুটপাতে স্বস্তি

তিনি জানান, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হলেও শুধু মামলা ও জরিমানা করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এমন অনেক গাড়ি রয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা হলেও মালিকরা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না।

আনিছুর রহমান বলেন, জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের সমস্যা তুলে ধরা হলে বিষয়টির বাস্তবতাও আলোচনায় উঠে আসে। এরপর থেকে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

কালো ধোঁয়ার কারণে শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কিছুক্ষণ রাস্তায় থাকার পর সেখান থেকে চলে যেতে পারেন। কিন্তু দায়িত্ব পালনের কারণে ট্রাফিক পুলিশকে দীর্ঘ সময় সড়কে থাকতে হয়। ফলে তাদের নিয়মিত কালো ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। এতে চোখ জ্বালাপোড়া করার পাশাপাশি ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে গিয়ে নানা ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ। বিভিন্ন সময়ে যৌথভাবে চেকপোস্টও পরিচালনা করা হয়।

DMP

তবে আনিছুর রহমান বলেন, চেকপোস্ট বসানোর খবর পেলে অনেক কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন রাস্তায় না চলে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থাকে। চেকপোস্ট শেষ হওয়ার পর আবার সড়কে নামানো হয় এসব গাড়ি। তিনি বলেন, প্রতিদিন চেকপোস্ট পরিচালনা কিংবা প্রতিটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা পুলিশের নেই। তারপরও কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার পরও সেটি আবার কালো ধোঁয়া নির্গমন করতে দেখা গেলে একই অপরাধে দ্বিগুণ জরিমানা করা হয়।

শুধু মামলা ও জরিমানা করে কালো ধোঁয়ার সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, যার যে দায়িত্ব, তা নিশ্চিত করতে হবে। গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারাও নিজেদের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তবে কালো ধোঁয়ার সমস্যা দৃশ্যমান এবং তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

‘হিট আইল্যান্ডের’ পথে ঢাকা, ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ কী?

এদিকে কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দ ও হর্নের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপি। আনিছুর রহমান জানান, শব্দদূষণের ঘটনায় গত মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নীরব এলাকা ঘোষণা করে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই এসব সাইনবোর্ডের নির্দেশনা মানছেন না। নীরব এলাকা কোথা থেকে শুরু বা কোথায় শেষ—সেটিও অনেকে খেয়াল করেন না। ফলে অনেকে সেখানে নিয়মিত হর্ন বাজাচ্ছেন।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে ‘হর্ন পি’ নামে একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা কোন গাড়ি নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত হর্ন বাজিয়েছে তা শনাক্ত করতে পারে।

এ ধরনের প্রযুক্তি বাংলাদেশেও ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর ব্যবহার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রযুক্তিগুলো ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বাজেট নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

জেবি