জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলের পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা। তারা বলেছেন, শুধু জনশক্তি রফতানির ওপর নির্ভর না করে দক্ষ, সনদপ্রাপ্ত ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে এআরআইএসই বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জিসিসি ওয়ার্কফোর্স অ্যান্ড ইকোনোমিক আউটলুক: হিউম্যান ক্যাপিটাল অপারচ্যুনিটিস, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্ট প্রসপেক্টস’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এবং শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের বাজারকে আরও বহুমুখী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কার্যকর ও টেকসই অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানউল্লাহ।
বক্তারা বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ এবং কাতার, কুয়েত ও ওমানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে জিসিসি অঞ্চলে বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অবকাঠামো, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে এসব সুযোগ বাড়ছে।
তবে এসব সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু কর্মী পাঠানো যথেষ্ট নয় বলে মত দেন তারা। কোন দেশে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম, সনদায়ন ও নিয়োগব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংলাপে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার পূর্বাভাস, কারিকুলাম তৈরি, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন, নিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ‘Skills-to-Employment Pipeline’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গন্তব্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন, জিসিসির নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি অংশীদারত্ব এবং শ্রমবাজারের তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সংলাপে বাংলাদেশ ও জিসিসির সম্পর্ককে শুধু শ্রম অভিবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সেবা ও প্রবাসী-সম্পৃক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানানো হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ARISE Bangladesh Foundation-এর নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘জিসিসিকে শুধু শ্রমিক পাঠানোর গন্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না। এটিকে আমাদের মানবসম্পদ, দক্ষতা, সেবা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি কৌশলগত বাজার হিসেবে দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, প্রথমে বাজারের চাহিদা বুঝতে হবে। এরপর সেই অনুযায়ী দক্ষতা তৈরি ও সনদায়ন করে যোগ্য বাংলাদেশি জনশক্তিকে সরাসরি বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মোসুদ মান্নান স্বাগত বক্তব্য দেন।
সংলাপে শক্তিশালী বাংলাদেশ-জিসিসি মানবসম্পদ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে শুধু বিদেশে কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং দক্ষ, সনদপ্রাপ্ত ও বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
বিইউ/এমআই