আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং বিশ্বনেতারা এই অভিনন্দন বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রথম দিকেই উষ্ণ অভিনন্দন জানায় এশিয়ার পরাশক্তি চীন।
ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বেইজিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বার্তায় জানায়, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঐতিহাসিক। নতুন রাষ্ট্রপতির দূরদর্শী নেতৃত্বে দুই দেশের এই কৌশলগত অংশীদারত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আগামীতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে চীন আশাবাদ ব্যক্ত করে।
পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অংশীদার যুক্তরাজ্য নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে যুক্তরাজ্য সবসময় পাশে থাকবে। নতুন রাষ্ট্রপতির সাথে জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য, যা অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গভীর বন্ধনে গড়ে উঠেছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন সহযোগিতার কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এরআগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এক সরকারি বিবৃতিতে তিনি নতুন রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করে বলেন, দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে তিনি নতুন রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরেরও আমন্ত্রণ জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্সও বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
ঢাকাস্থ ফরাসী দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক বার্তায় রাষ্ট্রপতির দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের প্রশংসা করে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন রাষ্ট্রপতির অবদান বজায় থাকবে।
পাশাপাশি ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাস তাদের বার্তায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে।
অন্যদিকে জার্মান দূতাবাস জানিয়েছে, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে সম্পর্ক আরও জোরালো হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সার্কভুক্ত দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বনেতাদের এই দ্রুত ও আন্তরিক অভিনন্দন বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতির গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। একই সাথে এটি বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে। নতুন রাষ্ট্রপতির হাত ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আরও সুদৃঢ় অবস্থানে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
এমএইচআর