জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ এএম
ফাহাম আবদুস সালাম। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ের জামাতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিষয়ে রাষ্ট্র, সমাজ নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলা মানুষটি এবার তার শ্বশুরকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতির কন্যাকে বিয়ের পর থেকে রাজনীতির মাঠ থেকে পরিবারে কেমন দেখেছেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ফেসবুক পোস্টে। তবে শ্বশুরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবরে একদিকে যেমন তিনি খুশি, তেমনি দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন নেতা চলে যাওয়ায় তিনি হতাশার কথা জানান পোস্টে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমি তাকে চিনি ২২ বছর—খুব কাছ থেকেই দেখেছি। আমি ওনার মতো রেসপনসিবল মানুষ জীবনে দেখেছি কেবল আরেকজন: আমার ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যারকে। যারা ছাদিক স্যারকে চেনেন, কেবল তারাই বুঝবেন এই বারটা কতটুকু ওপরে।
ফাহাম আবদুস সালাম বলেছেন, আলমগীর সাহেবের জীবনে মূলত একটাই রোল। একেক সময় একেকভাবে প্রতিভাত হয়েছে। কিন্তু রোল একটাই। সেটা দায়িত্বশীল বড় ছেলের। তিনি এমন একজন বড় ভাই, যিনি ৭ ভাইবোনের জন্য ৬টা চকলেট পেলে নিজের ৬ ভাইবোনকে ৬টা চকলেট দিয়ে নিজে একটাও না নিয়ে খুব খুশি থাকবেন। ৬ ভাইবোনের জন্য তিনি যে দায়িত্বের সঙ্গে সঠিক কাজটা খুব দ্রুত করে ফেললেন, এটাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা। এই রোল থেকে তিনি কখনোই বের হতে পারেন না। আবহমান বাংলাদেশের পরিবারের বড় ছেলে—যার কাঁধে অনেক দায়িত্ব।
মির্জা ফখরুলকে নিয়ে তিনি আরও বলেন, একটা ওল্ড ওয়ার্ল্ড ভ্যালু বিশেষ করে আমেরিকায় ও ক্রিশ্চান পৃথিবীতে ভীষণ জনপ্রিয় ও কার্যকর। মেক ইয়োরসেলফ ইউজফুল। এই গুণটা ওনার মধ্যে প্রকট বললে কম বলা হবে। একেবারেই বসে থাকতে পারেন না। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে কাজে লাগাতে চান। ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া শুরু করে দেন। কারণ তিনি বসে থাকতে পারেন না। আমার মনে হয় ওনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এই গুণটা ও তার ভদ্র আচরণ।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে উনি একদিন ম্যান টু ম্যান একা আমাকে বলছিলেন যে আমার জীবনের কাজ হয়ে গেছে। ম্যাডামকে বের করে আনছি। আর ইলেকশন হলে দেশটাও গণতন্ত্রে উঠে যাবে। আই অ্যাম স্যাটিসফায়েড। বহুবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন যে ম্যাডামকে বের করতে না পারা তার নিজের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতাকে তিনি পার্সোনালি নিতেন। আমাদের পরিবারে ম্যাডামের অবস্থান কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মতো না। নন-পলিটিক্যাল পরিবারের কাউকে বোঝানো কঠিন যে ম্যাডামের মর্যাদাটা ঠিক কেমন। সেদিন আমার মনে হয়েছিল যে ম্যাডাম খুবই সৌভাগ্যবান একজন নেতা। বাংলাদেশে কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মির্জা ফখরুলের মতো সাহাবি পাওয়া কঠিন, যে নিজের ভালো ও খারাপ—দুই সময়েই লিডারকে প্রথমে মনে করে এবং লিডারের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছে। আমি নিশ্চিত না যে তারেক রহমান এরকম একজন সাহাবি পাবেন। কেন যেন শিক্ষিত লোকেরা শুধুই বেঈমানি ও নিজের স্বার্থ দেখে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির অনেক তরুণ নেতাকর্মী মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন। এই কথাটার মাঝে একটা সত্যতা আছে। তিনি আসলেই বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান। তার দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু তিনি আসলেই যা বলেন—সেটাই বিশ্বাস করেন এবং সেটাই প্র্যাকটিস করতে চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ কিংবা উঁচুদরের ডেমোক্রেসি চর্চা করা সম্ভব না, কারণ আমাদের সোসাইটি এখনো গণতন্ত্রের জন্য প্রস্তুত না। কিন্তু তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি সারাজীবন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের গাড়িতে ঠেলা দিতে হলে তিনি সবার আগে দাঁড়িয়ে যাবেন।
ফাহাম আবদুস সালাম আরও বলেন, ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা আমার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও হতাশার। আনন্দের এজন্য যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য এমন একজন মানুষ দরকার, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে দেখতে রাজি। আমার মনে হয় সঠিক মানুষটাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। আর হতাশার এ কারণে যে বিএনপিতে এরকম একজন মানুষের খুব দরকার, যে নিজের আগে দলের ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন। এমন একজন মানুষের রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাছাড়া বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে দম বন্ধ হয়ে আসার কথা।
তিনি বলেন, বহু মানুষ, এমনকি আওয়ামী লীগের সাপোর্টাররাও আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বহু মানুষ ভীষণ খুশি। আমার জীবদ্দশায় আর কোনো মেজর পলিটিক্যাল লিডার এরকম জেনুইন বাইপার্টিজান সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে হয় না। উনি কোনো মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ নন। খুব বেশি অর্থবিত্তেরও অধিকারী নন। তার কোনো গ্রুপিং নাই বিএনপিতে। যারা মনে করেন পলিটিকসে সৎ ও ভালো লোকের কোনো খানা নাই—শাকিব খানের মতো করে তাদেরকে একটা কথাই শুধু বলবো। ইউ আর রং—টোটালি রং। জায়গা আছে। আপনাদেরকে দম রাখতে হবে।
বিইউ/এএস