আব্দুল হাকিম
২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
** রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার
** প্রথমবার মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত হবে পুরান ঢাকা
** অর্থ ব্যয় করতে জাইকা, এডিবি ও কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের আগ্রহ
** চীনকে সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে
** এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৬ এর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ থাকবে
** শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
রাজধানী ঢাকা ও শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের মধ্যে প্রতিদিন যাতায়াত করেন লাখো মানুষ। গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর ও ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ করিডরটি রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
কিন্তু দীর্ঘদিনের যানজট, ধীরগতির বাসসেবা আর প্রতিদিনের সময়ের অপচয়ে এই পথে চলাচল যেন ভোগান্তির আরেক নাম। নগরজীবনের এই দুর্ভোগ কমাতে এবার ব্যস্ত এই করিডরে মেট্রোরেল চালুর বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পশ্চিম প্রান্ত থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো একটি ধারাবাহিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দ্রুতগতির রেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা নগরবাসীর।
পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি অর্থ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রকল্পটির মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে সবচেয়ে বড় যে ঘাটতি রয়েছে, তা হলো পুরান ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের অভাব। এমআরটি লাইন-২ সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। গাবতলী থেকে শুরু হওয়া মূল লাইনের পাশাপাশি গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে পুরান ঢাকার ব্যবসাকেন্দ্র, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নদীবন্দরকে মেট্রোরেলের আওতায় আনা হবে।
ডিএমটিসিএলের প্রাথমিক রুট অনুযায়ী, মেট্রোরেলটি গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, আজিমপুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, ডেমরা, সাইনবোর্ড হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর পর্যন্ত যাবে। অন্যদিকে গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার ও সদরঘাট পর্যন্ত পৃথক শাখা লাইন থাকবে। এই শাখা লাইনের মাধ্যমে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলো সরাসরি দ্রুতগতির গণপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
বর্তমানে রাজধানীতে চালু রয়েছে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬। নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর, কমলাপুর ও পূর্বাচলকে সংযুক্ত করবে। এছাড়া এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন ও সাউদার্ন রুটও পরিকল্পনায় রয়েছে। তবে পুরান ঢাকা, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড কিংবা সদরঘাটের মতো জনবহুল এলাকাগুলো এখনো কোনো মেট্রোরেল সেবার আওতায় আসেনি।

প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এই নতুন রুটটি পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সংযোগ করিডরে পরিণত হতে পারে। গাবতলীতে এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন, গুলিস্তানে ভবিষ্যতের বিভিন্ন রুট এবং কমলাপুরে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৬ এর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ তৈরি হবে। ফলে একজন যাত্রী একাধিক লাইন ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে তুলনামূলক কম সময়ে পৌঁছাতে পারবেন।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর হালনাগাদ কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা পর্যালোচনার সময় দেখা গেছে, গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের তুলনায় গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ করিডরে যাত্রী সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ এই রুটে রয়েছে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, মতিঝিল, পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় অঞ্চল। এ কারণে এমআরটি লাইন-২-কে নতুন অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন, আংশিক বাস্তবায়ন কিংবা পুনর্বিন্যাসের মতো একাধিক বিকল্প এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ ও যাত্রী চাহিদা মূল্যায়ন করা হবে। অর্থায়নের প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিদেশি সহযোগিতা।
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি লাইন-২-এর জন্য উন্নয়ন সহযোগী নির্বাচন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে সরকার সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে চীনের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ, সুদের হার, গ্রেস পিরিয়ড, পরিশোধের সময়সীমা ও কমিটমেন্ট ফির মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহ ও উন্নয়ন সহযোগী নির্ধারণের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি)। তাই এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও অর্থায়নের উৎস চূড়ান্ত করবে ইআরডি। প্রয়োজন হলে চীনের সঙ্গেও তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনা করতে পারে।
তিনি বলেন, বৈদেশিক অর্থায়নের বিষয়ে ইআরডি যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে তাদের দায়িত্ব হবে চূড়ান্ত অর্থায়নের কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক বলেন, এমআরটি লাইন-২ ছাড়া দেশের অন্যান্য মেট্রোরেল প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী ইতোমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে। একমাত্র এই প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সে কারণে সরকার চীনের কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো একটি দেশের প্রস্তাব শুধু অর্থের পরিমাণ দেখে গ্রহণ করবে না। বরং সুদের হার, কমিটমেন্ট ফি, গ্রেস পিরিয়ড, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ও সামগ্রিক আর্থিক শর্ত বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে অনুকূল ও টেকসই অর্থায়নের প্রস্তাবই বেছে নেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পের আর্থিক চাপ কম রাখতে সুবিধাজনক ঋণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী বা দাতাগোষ্ঠী নির্ধারণের বিষয়টি বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রী চাহিদা, ট্রাফিক প্রবাহ, ভূমি ব্যবহার, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, এমআরটি লাইন-২ বাস্তবায়নে জাপানের জাইকা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকসহ একাধিক উন্নয়ন সহযোগী আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে কোন সংস্থা অর্থায়ন করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন অর্থায়ন প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। ডিএমটিসিএলের লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমআরটি লাইন-২ চালু করা। এই রুট চালু হলে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের মানুষের যাতায়াতে গতি আসবে, ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে সময় সাশ্রয় হবে।
যাত্রী চাহিদার দিক থেকেও প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পরিকল্পনাবিদরা। হালনাগাদ পরিবহন পরিকল্পনার হিসাব অনুযায়ী, উন্নয়নের মাত্রাভেদে এই রুটে প্রতিদিন ১০ লাখের বেশি মানুষ যাতায়াত করতে পারে। সর্বোচ্চ চাহিদার পরিস্থিতিতে দৈনিক যাত্রী সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানীর পশ্চিম, কেন্দ্র ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
পুরান ঢাকার জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বেশি। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার, সদরঘাট নৌবন্দর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, লালবাগ ও চকবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের গন্তব্য। কিন্তু সরু সড়ক, সীমিত বাসসেবা ও স্থায়ী যানজটের কারণে এই অঞ্চলে যাতায়াত সবচেয়ে কঠিন। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত শাখা লাইন চালু হলে নদীপথ, সড়কপথ ও মেট্রোরেলের মধ্যে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রকল্পের অবকাঠামোগত পরিকল্পনায় উড়াল ও ভূগর্ভস্থ উভয় ধরনের রেলপথ রাখা হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলোর ওপর প্রভাব কমাতে পুরান ঢাকার অংশে ভূগর্ভস্থ নির্মাণের ধারণা বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে প্রশস্ত সড়ক ও নতুন নগরায়ণ এলাকাগুলোতে উড়ালপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডেমরা ও মাতুয়াইল এলাকায় ডিপো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকও এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রাথমিক ও বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত এবং দরপত্র নথি তৈরিতে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ভবিষ্যতে মূল বিনিয়োগেও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রবেশ করতে পারে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী নন। বরং সরকারি ঋণের চাপ কমিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রকল্পে সরকার তুলনামূলক কম ঋণ নেবে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। জনগণও কম হারে কর বা অর্থ দিয়ে প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারবে। আর যারা প্রকল্পে অর্থায়ন করবে, তারা নিয়মতান্ত্রিক ও ন্যায্য হারে তাদের বিনিয়োগের সুবিধা পাবে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ যথেষ্ট নয়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ করিডরে মেট্রোরেল চালু হলে ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসের ওপর নির্ভরতা কমবে, যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং বায়ুদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এত বড় ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় ও যাত্রী আয়ের বাস্তবসম্মত পূর্বাভাস নিশ্চিত করা জরুরি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে দেশের আর্থিক সংকট অব্যাহত থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার আগে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মেট্রোরেল সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খুব বেশি দ্বিমত থাকার কথা নয়। তবে এ ধরনের প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে অর্থনীতিতে সমপরিমাণ বা প্রত্যাশিত রিটার্ন আসবে কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল নির্মাণে বাংলাদেশের আগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন প্রকল্পের ব্যয়, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফল এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করা না গেলে ঋণের চাপ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তাই প্রকল্পটির যৌক্তিকতা থাকলেও বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পটি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জকে দ্রুতগতির গণপরিবহনের আওতায় আনা গেলে এই করিডরের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তি কমবে। তবে একই সময়ে আরও একটি ব্যয়বহুল মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণের আগে সরকারকে সতর্কভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে।
এএইচ/এআরএম