জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
প্রায় ২৫ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে জাহাজে করে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন কক্সবাজার উখিয়ার মোহাম্মদ ফরিদ। সেখান থেকে জীবিকার তাগিদে দালালদের মাধ্যমে চলে যান তুরস্কে। কিন্তু সেখানে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি তার। এক রেল দুর্ঘটনায় দুটি পা হারান তিনি। সেই ফরিদ দেশে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর সোয়া ৫ টায় তুরষ্ক থেকে বিমানযোগে ঢাকায় আসেন ফরিদ। ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে তার বাড়ীর পথে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা ও বাবার নাম জানলেও স্বজনদের খোঁজ জানেন না। ফলে তার আপাতত ঠিকানা হয়েছে ব্র্যাকের আশকোনার মাইগ্রেশন ওয়লফেয়ার সেন্টারে।
ব্র্যাকের আশকোনার মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, ‘তিনি কোথায় যাবেন কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। পরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। এখন তাকে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদের বয়স এখন ৩৫ বছর। তিনি মাত্র ১০ বছর আগে বাবা আয়ুব আলীর সঙ্গে পাকিস্তান হয়ে সড়কপথে তুরস্ক হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে থাকাকালে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় তাঁর দুই পা কেটে যায়।’
রায়হান কবির বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে আসা ফরিদ ভালোভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছেন না। তিনি শুধু তাঁর নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং কিছু তথ্য দিতে পেরেছেন।’
ফরিদের দেওয়া তথ্যমতে, তার পিতার নাম আয়ুব আলী ও মা নূরজাহান। গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং এলাকার মরিচ্যা বাজারে।
সেই তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিবারকে খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে জানান ব্র্যাকের রায়হান কবির।
তার পরিবার পরিজন বা স্বজনদের সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য জানা থাকলে ০১৯৬৪-৯৬৪২৯২ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধও করেন তিনি।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্লাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, ‘আমরা তার পরিবার ও স্বজনদের খুঁজছি। তবুও কারও কাছে এ বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে।’
এমআইকে/এএম