দক্ষিণ আফ্রিকায় সুপারশপের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন জামে মসজিদে দুই দফায় জানাজা শেষে স্থানীয় ইজিবিলিনি মুসলিম কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মরদেহগুলোর পৃথক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ছয়জনকে তিনটি কবরে দাফন করা হয়। প্রতি কবরে দুজন করে দাফন করা হয়।
তাদের জানাজায় স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি মুসলিম কমিউনিটির শীর্ষ নেতা ডা. মাকাদা, বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ইউনুসসহ প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
জানাজা শেষে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
স্থানীয় কমিউনিটি নেতা মাহমুদুর রহমান জানান, আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় কোনটি কার মরদেহ তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও জটিল হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সম্মতিতে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তাদের দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২৮ জুলাই ভোররাতে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের সমো এলাকার ‘মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি’ নামের সুপারশপের আবাসিক অংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়।
ওই ঘটনায় দোকানের পেছনের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সাত বাংলাদেশির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের মো. ফয়সাল (২৬), মো. ফাহিম (২৯), শামীম হাসান (৩০), মোহাম্মদ আপন (২৩), নূর মোহাম্মদ (৫৫) এবং মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারী (৫৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
একই ঘটনায় মো. সুমন নামের একজন বাংলাদেশি আহতও হন। তবে তিনি এখন সুস্থ্য আছেন। তিনি নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
এএম




