Dhaka Mail Logo

জাতীয়

বুড়িগঙ্গা-তুরাগে দূষণের ২২৪ উৎস চিহ্নিত, বন্ধে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে বর্জ্য নিঃসরণের ২২৪টি উৎসমুখ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় ১৬৬টি এবং তুরাগে ৫৮টি উৎসমুখ রয়েছে। এসব উৎসমুখের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা জড়িত। নদী দুটির দূষণ বন্ধে এসব উৎসমুখ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী এবং নদী-সংযুক্ত খালগুলোতে শিল্প, পয়ঃ ও অন্যান্য বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিল্প মালিকদের সহযোগিতা ছাড়া নদী দূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারখানার দূষিত পানি যাতে খাল বা নদীতে না পড়ে, সেজন্য কার্যকর বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটিপি) নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের দেশের সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে শিল্প-কারখানা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সমন্বিতভাবে কাজ না করলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।

সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা’ উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনায় শিল্পবর্জ্যের উৎসভিত্তিক তালিকা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও পরিচালনা নিশ্চিত করা, অনুমোদনহীন ড্রেন শনাক্ত করে বন্ধ করা এবং খাল ও ড্রেন থেকে বর্জ্য অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী খাল ও ড্রেনেজের পাশে সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ইটিপি এবং ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নদীর তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের বিষয়টিও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিল্পের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় করতে হবে। 

তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনার কথা জানান। পাশাপাশি অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন। ইটিপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, বুড়িগঙ্গাকে টেমস নদীর মতো করে গড়ে তোলা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাকে লন্ডনের টেমস নদীর মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শুধু বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত করলেই হবে না, তুরাগের উজানে নদী দূষণের উৎসগুলোও বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি গাবতলী ও আশুলিয়ায় নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং পর্যটকদের বিনোদনের জন্য জাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সভায় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের দূষণের সব উৎসমুখ বন্ধ, খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদীর তলদেশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তারা এবং এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এফএ