Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘জ্বালানি সংকট থাকলে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জন অবাস্তব’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জন অবাস্তব হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘পণ্য উৎপাদন কিংবা সেবা, কোনো কিছুই জ্বালানি ছাড়া সচল রাখা সম্ভব নয়। জ্বালানি এখন একটি কৌশলগত পণ্যে পরিণত হয়েছে। শিল্প-কারখানা, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি, সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটি পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, যেখানে জ্বালানি সংকটের মাত্রা বহুমাত্রিক। আগে জ্বালানি খাতে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হতো। এখন সেই পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে কী করা যায়, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পর্যাপ্ত ও দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ করা না গেলে দেশের অর্থনীতির সামনে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এ কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

জ্বালানি ব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি হতে হবে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পর্যাপ্ত। একই সঙ্গে পুরো ব্যবস্থাটিকে আর্থিকভাবেও টেকসই করতে হবে। দেশের জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা পুঞ্জীভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি দক্ষতা, জ্বালানি বাণিজ্য ও জ্বালানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে সংকটকে আরও জটিল ও গুরুতর করে তুলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সংকটের বহুমাত্রিকতার কারণে এর সঙ্গে নতুন নতুন সমস্যা যুক্ত হচ্ছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের সামনে এখন বিভিন্ন অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বর্তমান সরকারও তাদের রাজনৈতিক ইশতেহারে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন পথরেখা তুলে ধরেছে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সেই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এসব লক্ষ্য অর্জন করা একেবারেই বাস্তবসম্মত হবে না।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট এখন আর শুধু কোনো একটি খাতের সমস্যা নয়। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিশেষ কাজে আটকে থাকায় সরাসরি উপস্থিত হতে না পারলেও অনলাইনে যুক্ত হন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, সিপিডির বোর্ড সদস্য ও ফুটওয়্যার লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি হলেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ রূপিয়া বিনতে মুস্তাফিজ, জ্বালানি বিশ্লেষক ড. সাকিব বিন আমিন, বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের(ইডকল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার আলম চৌধুরী পারভেজ প্রমুখ।

এএইচ/এমআই