নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে ও অবয়বে স্থাপিত ভাস্কর্য দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)।
সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান তিনি।
হেফাজতের নায়েবে আমির বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মী, পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। ইসলামের বিধান সবার জন্য সমান। কারও মর্যাদা, অবদান কিংবা রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে শরিয়তের বিধান পরিবর্তিত হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপন অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। ইসলামি মূল্যবোধ, আকিদা ও শরিয়তের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র ও জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীর মতো শরিয়াসম্মত পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে ইতিহাস সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধও অক্ষুণ্ন থাকবে।’
সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ’
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো আলেম, ইসলামি ব্যক্তিত্ব কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ না করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে সেই সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।’
পীর সাহেব দেওনা বলেন, ‘স্বৈরাচারী আমলে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক উলামায়ে কেরাম কারাবরণ করেছেন এবং অনেকে শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ সেই আলেমদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না। অথচ তাঁদের মহান জীবন, ত্যাগ ও আদর্শ ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়েছে। তাই ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী আলেম ও শহীদদের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।’
ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এমআর/এএম