নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
বয়স শত বছরের গণ্ডি পেরিয়েছে। হাঁটেন ধীরে ধীরে, চলাফেরায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট। তবু ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। সেই আগ্রহ থেকেই মেয়ে, ছেলের বউ ও মেয়ের জামাইকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে এসেছিলেন শতবর্ষী আলহাজ মোহাম্মদ জিন্নাত আলী।
জাদুঘরের প্রতিটি গ্যালারি তিনি ধীর পায়ে ঘুরে দেখেন। কোথাও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছবি দেখেছেন, কোথাও প্রদর্শিত সামগ্রীর দিকে গভীর মনোযোগ দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটও জানতে চেয়েছেন। বয়সের ভারে হাঁটতে কষ্ট হলেও পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখার আগ্রহে কোনো ক্লান্তি দেখা যায়নি।
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে আলহাজ মোহাম্মদ জিন্নাত আলী বলেন, ‘ইতিহাস না জানলে একটি জাতি সামনে এগোতে পারে না। আমি যতটুকু পেরেছি, নিজের চোখে দেখে গেলাম। এখানে এসে মনে হলো, অনেক কিছু কাছ থেকে জানার সুযোগ হলো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও এসব জানা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের কথা মানুষ যেন কখনো ভুলে না যায়। এই জাদুঘর সেই স্মৃতি ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আমার বয়স হয়েছে, কত দিন বাঁচব জানি না। কিন্তু যত দিন আছি, দেশের ইতিহাস জানার চেষ্টা করে যেতে চাই।’
কথা বলতে বলতে কখনো থেমে যাচ্ছিলেন, আবার কিছুক্ষণ পর ধীর কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন। তার চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির ছাপ। পরিবারের সদস্যরাও পাশে দাঁড়িয়ে তার কথা শুনছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জাদুঘরটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার খবর শোনার পর থেকেই এখানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন জিন্নাত আলী। বয়সের কারণে প্রথমে তারা কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন। তবে তার আগ্রহের কাছে সেই শঙ্কা টেকেনি। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে তাকে নিয়ে জাদুঘরে আসেন।
জাদুঘরে উপস্থিত অনেক দর্শনার্থীর দৃষ্টি কাড়েন শতবর্ষী এই মানুষটি। কেউ এগিয়ে এসে কুশল বিনিময় করেন, কেউ তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চান। অনেকে বলেন, একশ বছরের বেশি বয়সেও ইতিহাস জানার এমন আগ্রহ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার।
এএইচ/এমআই