Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ব্যক্তি পর্যায়ে এনআইডি যাচাইয়ে নতুন অ্যাপ আনছে ইসি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

ব্যক্তি পর্যায়ে নানা কারণে অনেক সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কোন এনআইডিটি আসল আর কোনটি নকল, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। এ সমস্যার সমাধানে এবার ব্যক্তি পর্যায়ে এনআইডি যাচাইয়ে নতুন একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সূত্র জানায়, গাড়িচালক নিয়োগ, নতুন ভাড়াটিয়া রাখা, গৃহকর্মী নিয়োগসহ নানা কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে নাগরিকদের এনআইডির তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় দেখা যায়, প্রতারক চক্র ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে এসব কাজ করছে। এতে যারা এসব সেবা গ্রহণ করেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বর্তমানে এনআইডির তথ্য যাচাই করতে হলে নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে গিয়ে তা যাচাই করতে হয়। অনেকেই কার্যালয়ে যাওয়াকে সময়সাপেক্ষ মনে করেন। আবার অনেকে অবহেলা করে এনআইডি যাচাই করতে যান না। ফলে যাকে গৃহকর্মী বা গাড়িচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো, তার এনআইডি সঠিক কি না, তা আর যাচাই করা হয় না। পরবর্তীতে কোনো অঘটন ঘটলে থানায় ওই এনআইডি দেওয়া হলে দেখা যায়, সেটি ভুয়া।

এ ধরনের সমস্যার সমাধানে নাগরিকরা যাতে ব্যক্তি পর্যায়ে এনআইডির তথ্য যাচাই করতে পারেন, সে জন্যই একটি অ্যাপ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি সূত্র আরও জানায়, পরিকল্পনাটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি বিষয় যাচাই-বাছাই বাকি রয়েছে।

সূত্রটি জানায়, এনআইডি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপ তৈরির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন—অ্যাপে যেন কোনো ধরনের কারিগরি দুর্বলতা না থাকে, তথ্য চুরি কিংবা ডাটাবেজ হ্যাকিংয়ের শিকার না হয় এবং তথ্যের অপব্যবহারের কোনো সুযোগ যেন সৃষ্টি না হয়।

সূত্র আরও জানায়, অ্যাপটির নাম প্রথমে ‘বিডি এনআইডি’(ইউ ঘওউ) রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে এর পরিবর্তে ‘বিডি ভোটার এনআইডি’ (ইউ ঠড়ঃবৎ ঘওউ) অথবা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও মৌলিক কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত এমন কোনো নাম রাখার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এ অ্যাপের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কতটি এনআইডি যাচাই করতে পারবেন- জানতে চাইলে সূত্রটি জানায়, একজন ব্যক্তি অ্যাপে নিবন্ধনের পর সর্বোচ্চ তিনটি এনআইডি যাচাইয়ের সুযোগ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা জানান, পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তার সময় এসেছে। একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির মাধ্যমে মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করে এনআইডি কার্ডে থাকা বারকোড বা মেশিন রিডেবল অংশ স্ক্যান করা যেতে পারে। পরে তা কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত নাগরিকের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট নাগরিকের ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে সহজেই এনআইডি কার্ডের সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, এনআইডির তথ্য যাচাই সেবা নিতে বর্তমানে ২০০টি প্রতিষ্ঠান ইসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ৬৩টি ব্যাংক। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি রয়েছে। 

এনআইডির তথ্য যাচাই করতে হলে চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সরকারি কোষাগারে এককালীন সার্ভিস চার্জ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে হয়। এর পাশাপাশি বার্ষিক নবায়ন ফিও রয়েছে।

সূত্র জানায়, আগে ইসির সার্ভারে অনলাইনে কোনো ব্যক্তির এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ডাটাবেজ থেকে তার নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, বাবার নাম, মায়ের নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম এবং ছবি যাচাই করা যেত। বর্তমানে শুধু ‘ম্যাচ’ বা ‘নো ম্যাচ’ দেখানো হয়।

তবে বেওয়ারিশ লাশ, জঙ্গি ও অপরাধীদের আঙুলের ছাপ অনলাইনে পাঠানো হলে সার্ভারে সংরক্ষিত বায়োমেট্রিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে র‌্যাব, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য-উপাত্ত যাচাই বা সরবরাহ সেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। বার্ষিক সাব-ইউজার ফি বা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মতো সুবিধা নিতে চাইলে প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের জন্য দুই টাকা ফি দিতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি পাঁচ লাখ টাকা। সাব-ইউজার সংখ্যা অনুসারে প্রথম ৭০টি সাব-ইউজারের প্রতিটির জন্য চার হাজার টাকা এবং প্রথম ৭০টির পরবর্তী প্রতিটি সাব-ইউজারের জন্য দুই হাজার টাকা দিতে হবে। প্রতিটি তথ্য প্রতিবার যাচাইয়ের জন্য দিতে হবে পাঁচ টাকা।

সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

এমএইচএইচ/এএইচ