জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব-আমিরাতের দুবাইয়ে গত জুন মাসে গ্রেফতার হন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতিসহ দেশে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা চলমান। তাকে গ্রেফতারের পর দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এর মধ্যেই খবর আসে ইতোমধ্যে বেনজীর আহমেদ শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে সাবেক পুলিশপ্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে এখনো আশাবাদী সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই চলছে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর আসে আজ রোববার। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শামা ওবায়েদ। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতিমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অভিযুক্ত এই সাবেক পুলিশপ্রধানকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমরা আশা করছি খুব শিগগির অভিযুক্ত আসামি বেনজীর আহমেদকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এ দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে পরবর্তী কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
বিইউ/জেবি