নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় হজ ও ওমরাহ মেলা ২০২৬। মেলায় অংশ নেওয়া ১৩৩টি হজ এজেন্সি বিভিন্ন মূল্যছাড়, বিশেষ অফার ও আকর্ষণীয় প্যাকেজ নিয়ে হাজির হয়েছে। কোথাও হজ বুকিংয়ে নগদ ছাড়, কোথাও ১০ জনের গ্রুপ বুকিংয়ে একজনকে বিনামূল্যে ওমরাহ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের হজ প্যাকেজও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে মেলার কার্যক্রম। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হজ মেলা শুরু হয়। তিনদিন ব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হবে শনিবার। তরুণ থেকে প্রবীণ নানা বয়সী মানুষ হজ ও ওমরাহর পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন স্টলে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীদের খেজুর, কফি ও চকলেট দিয়ে আপ্যায়নের পাশাপাশি ভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা দেখানো হচ্ছে। আবার মিনিয়েচার ম্যাপের সাহায্যে মক্কা, মিনা, আরাফাত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের কার্যক্রমও তুলে ধরা হচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া মাবরুর এয়ার ট্রাভেলস ১০ জনের হজ গ্রুপ বুকিং দিলে একজনকে বিনামূল্যে ওমরাহ করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার সাইফ জানান, তাদের ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার প্যাকেজে মক্কা ও মদিনায় প্রায় ৮০০ মিটারের মধ্যে সরকার অনুমোদিত এসি ও লিফট সুবিধাসম্পন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ৭ লাখ, ৮ লাখ ও ১৬ লাখ টাকার প্যাকেজও রয়েছে।
অন্যদিকে মক্কা মদিনা ট্রাভেল সার্ভিসেস মেলা উপলক্ষে হজ বুকিংয়ে ১০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩ হাজার ৩০০ টাকা) এবং ওমরাহ বুকিংয়ে ৫০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।
আকিজ হজ কাফেলা ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকায় ইকোনমি হজ প্যাকেজ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই প্যাকেজে হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মক্কা ও মদিনায় ৬০০ থেকে ৯০০ মিটারের মধ্যে হোটেল সুবিধা থাকবে।
জেয়ারতে বাইতুল্লাহ ট্রাভেলস লিমিটেড ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকায় সাধারণ হজ প্যাকেজ অফার করছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও দেখভালের বিষয়ে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দেই।

এদিকে গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল ৫ তারকা হোটেল ও ভিআইপি তাঁবুসহ ১৮ থেকে ২০ দিনের ভিআইপি হজ প্যাকেজ দিচ্ছে ১৪ লাখ টাকায়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন বলেন, শুধু কম খরচ দেখে নয়, হোটেলের দূরত্ব ও সেবার মান বিবেচনা করেই হজ প্যাকেজ নির্বাচন করা উচিত। অন্যথায় অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ প্যাকেজের খরচ তুলনা করছেন, কেউ সৌদি আরবে থাকার ব্যবস্থা, হোটেলের অবস্থান ও পরিবহন সুবিধা সম্পর্কে তথ্য নিচ্ছেন। আবার অনেকেই সরাসরি বিমান টিকিট, আবাসন ও সার্বিক সেবার মান যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে চান।
ব্যবসায়ী জাহিরুল ইসলাম জানান, ২০২৭ সালে হজে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই বিভিন্ন এজেন্সির সুযোগ-সুবিধা দেখে ভালো একটি প্যাকেজ বেছে নিতে মেলায় এসেছেন।
চাকরিজীবী মনিরুল হক বলেন, আমার বাবা-মাকে ওমরাতে পাঠাতে চাই। বয়স্ক হওয়ায় নিরাপদ ভ্রমণ ও যথাযথ সেবাদান নিশ্চিত করতে পারে এমন একটি এজেন্সি খুঁজছি।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, মেলায় অংশ নেওয়া সব এজেন্সিই হাবের সদস্য। ফলে হজযাত্রীদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। চুক্তি অনুযায়ী কোনো সেবা না পেলে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মের অভিযোগ বেশি আসে ঢাকার বাইরের অনিবন্ধিত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। এ কারণে আগামীতে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও হজ ও ওমরাহ মেলার আয়োজন করা হবে।
এমআর/এফএ