Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘ফেরা’র উল্টো পাশে ‘গ্রিন ভিলা’য় কাটবে সাহাবুদ্দিনের নতুন জীবন

বোরহান উদ্দিন

২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

# মেয়াদ শেষের ২১ মাস আগেই ছাড়ছেন বঙ্গভবন

# প্রটোকলের জীবন শেষে রোববার ফিরছেন গুলশানের চেনা পাড়ায়

# বঙ্গভবন থেকে ধাপে ধাপে গুলশানে পৌঁছেছে ব্যক্তিগত সামগ্রী

# সাহাবুদ্দিনের ফেরার অপেক্ষায় সরগরম গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়ক

# বঙ্গভবনে স্টাফদের সঙ্গে শেষ বিদায়ী নৈশভোজ

গুলশান-১ নম্বরের ১২৩ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়িটির নাম ‘ফেরা’। কাকতালীয়ভাবে সেই বাড়ির ঠিক উল্টোদিকেই ‘গ্রিন ভিলা’, যেখানে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিন আগে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের জীবনের নতুন অধ্যায়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদা, কড়া প্রটোকল ও নিরাপত্তাবেষ্টিত জীবন পেছনে ফেলে তিনি ফিরছেন গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর ‘গ্রীন ভিলা’ ভবনের নিজের ফ্ল্যাটে। নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই বঙ্গভবন ছেড়ে এই পরিচিত ঠিকানায় শুরু হচ্ছে সাহাবুদ্দিনের সাধারণ নাগরিক জীবনের নতুন পর্ব। ভবনটির ৫ম তলার ফ্ল্যাটেই থাকবেন সদ্য সাবেক হওয়া এই রাষ্ট্রপতি।

বঙ্গভবনের প্রটোকলের জীবন শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতির এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে এখন সরগরম গুলশানের ওই গলি। রাস্তার মোড়ের রিকশাচালক থেকে শুরু করে আশপাশের ভবনের কর্মচারী-সবার মধ্যে বিরাজ করছে কৌতুহল।

চেনা গলিতে কৌতুহল

গুলশান-১ নম্বরের ১২৩ নম্বর সড়কের আবাসিক ওই গলিটি সাধারণত আর দশটা নিরিবিলি রাস্তার মতোই থাকে। তবে শুক্রবার মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বঙ্গভবন ছেড়ে তার এই গলিতে ওঠার খবর চাউর হতে শুরু করে।

গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে এলাকাটিতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার মোড়ের রিকশাচালক থেকে শুরু করে আশপাশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনের কর্মচারীদের প্রধান আলোচনার বিষয় এখন সাহাবুদ্দিনের প্রত্যাবর্তন। বঙ্গভবনের রাজকীয় জীবন ছেড়ে তিনি যখন সাধারণ প্রতিবেশীর মতো আবারো এই ‘গ্রীন ভিলা’য় থাকতে শুরু করবেন, তখন এলাকার পরিবেশ কিংবা নিরাপত্তার চিত্র কেমন দাঁড়াবে-তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।

sahabuddin-2বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে দীর্ঘদিন পরিবার নিয়ে গুলশানের এই ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে এবং গুলশানের বাসায় পরিবারের কেউ না থাকায় ফ্ল্যাটটি এতদিন এক অর্থে ফাঁকাই ছিল।

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির প্রত্যাবর্তনের খবরে শনিবার ভবনটিতে ব্যস্ততা চোখে পড়ে। নিচতলার বসার ঘর থেকে শুরু করে অতিথি কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ পুরোদমে চালাতে দেখা যায় কর্মচারীদের। জমে থাকা ধুলোবালি ঝেড়ে-মুছে চকচকে করার পাশাপাশি বসার ঘরের দেয়ালে দেওয়া হচ্ছে নতুন রঙের প্রলেপ। ঝাড়ামোছা করা হচ্ছে পুরোনো আসবাবপত্রও।

শনিবার বিকেলে দেখা যায়, একজন কর্মচারী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। বাড়ির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মচারীর কাছে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘স্যার কখন আসবেন তা নিশ্চিত বলতে পারি না। আমাদের নিচতলার অতিথি রুমটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। সেইভাবে কাজ করছি। স্যার আগে পাঁচ তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন।’

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় ও পারিবারিক সরঞ্জাম ধাপে ধাপে গুলশানের এই ‘গ্রিন ভিলা’র উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। মূলত পরিবারটির দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র ট্রাকে করে গুলশানের বাসায় এনে গোছগাছ করা হচ্ছে, যাতে তিনি পৌঁছানোর পরপরই বাসযোগ্য পরিবেশ পান।

sahabuddin-4
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতির উপ প্রেস সচিব মো. সাহাবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মো. সাহাবুদ্দিনের বঙ্গভবন ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এক প্রশ্নের জবাবে সাজাবুর রহমান বলেন, ‘সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রোববার দুপুরের দিকে বঙ্গভবন ছেড়ে দেবেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি গুলশানের নিজের বাসাতেই উঠবেন।’

এদিকে শনিবার রাতে বঙ্গভবনের স্টাফদের জন্য বিদায়ী নৈশ্যভোজের আয়োজন করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে।

৫ বছরের মেয়াদ ২১ মাস আগেই শেষ

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাংবিধানিক ইতিহাসে মো. সাহাবুদ্দিনের বঙ্গভবনে আগমন এবং প্রস্থান দুটোই বেশ আলোচিত ঘটনা। সাবেক এই বিচারক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনারকে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ।

২০২৩ সালের শুরুতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ওই বছরের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। সে হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।

sahabuddin-1ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২১ মাস আগেই বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে মো. সাহাবুদ্দিনকে। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনের আলোকোজ্জ্বল জীবন পেছনে ফেলে রোববার থেকে গুলশানের ‘গ্রিন ভিলা’র শান্ত পরিবেশে শুরু হচ্ছে তার সাধারণ নাগরিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়।

বিইউ/এমআর