Dhaka Mail Logo

জাতীয় / কৃষি ও পরিবেশ

কংক্রিটের ছায়ায় উজাড় ১ লাখ হেক্টর বনভূমি!

আব্দুল হাকিম

২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ এএম

  • গত দুই বছরে কাটা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ গাছ
  • উন্নয়নের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে শতবর্ষী গাছ
  • রাজশাহীতে তিন প্রকল্পে কাটবে ২,৩২৩টি গাছ
  • শাবিপ্রবিতে নিলামে বিক্রি হয়েছে ১০৭টি পুরোনো গাছ
  • আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা
  • সরকার ঘোষণা করেছে ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’
  • পর্যবেক্ষণে চালু হবে ‘ডিজিটাল অ্যাপ’

দেশজুড়ে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সেই উন্নয়নের বড় মূল্য দিতে হচ্ছে পরিবেশকে। সড়ক সম্প্রসারণ, রেললাইন নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, খাল পুনঃখনন, শিল্পকারখানা ও আবাসন প্রকল্পের জন্য প্রতিনিয়ত কাটা পড়ছে হাজার হাজার গাছ। কোথাও শতবর্ষী গাছ, কোথাও বনাঞ্চল, আবার কোথাও গ্রামীণ সড়কের দুই পাশের সারিবদ্ধ বৃক্ষ। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় গাছ কাটার ঘটনা এখন বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

বন অধিদফতরের সর্বশেষ বন জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশে বন আচ্ছাদনের হার ছিল ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ১১ শতাংশে। একই সময়ে দেশের মোট বনভূমি কমে প্রায় ১৮ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর থেকে ১৭ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের সংকটের মধ্যে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল। বন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাঙামাটিতেই গত এক দশকে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর বনভূমি কমেছে। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতেও পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, অবৈধ দখল, জুম চাষের সম্প্রসারণ এবং কাঠ পাচারের কারণে বনভূমি সংকুচিত হয়েছে। একইভাবে মধুপুরের শালবন, গাজীপুরের বনাঞ্চল এবং দেশের উপকূলীয় এলাকাও ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বন উজাড়ের আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রামের চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, কক্সবাজারের মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ও ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে রেললাইন নির্মাণের সময় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হয়েছে। এতে শুধু বনভূমিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও হাতির চলাচলের করিডরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১৩ লাখ গাছ কাটা হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু প্রতিটি প্রকল্পে বনভূমির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং সমপরিমাণ পরিবেশগত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা জরুরি।

বন কমে যাওয়ার প্রভাব এখন জলবায়ুতেও স্পষ্ট। গবেষকদের মতে, বনভূমি কমলে কার্বন শোষণের সক্ষমতা হ্রাস পায়, তাপমাত্রা বাড়ে, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায় এবং ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। নগর এলাকায় গাছ কমে যাওয়ায় 'নগর তাপদ্বীপ' প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকে।

রাজশাহীতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার ৩২৩টি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণেই কাটা হবে ১ হাজার ৮৫৩টি গাছ। এছাড়া নতুন পাইপলাইন নির্মাণে আরও ৪১৮টি এবং অন্য একটি প্রকল্পে ৫২টি গাছ কাটার পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে।

7

চট্টগ্রামেও উন্নয়নের নামে শতবর্ষী গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে বহু পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য একটি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হয়। একই এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নিয়েও গাছ কাটার বিতর্ক তৈরি হয়।

খাল পুনঃখনন প্রকল্পও পরিবেশের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চারটি খাল পুনঃখননের সময় দুই পাশের পাঁচ হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। প্রকল্প শেষ হলে আরও পাঁচ হাজার গাছ কাটার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও রেহাই মিলছে না পুরোনো গাছের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৭টি পুরোনো গাছ নিলামে বিক্রি করার ঘটনাও আলোচনায় আসে।

স্থানীয় পর্যায়েও অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগ বাড়ছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় সড়কের পাশের তিনটি শিমুল গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে নওগাঁয় সড়কের দুই পাশের সারিবদ্ধ পাঁচ শতাধিক তালগাছের মাথা কেটে দেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনুমোদন ছাড়াই তিন হাজারের বেশি গাছ কাটার অভিযোগও উঠে এসেছে। একইভাবে যশোরের মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণে সাড়ে ছয় হাজার গাছ কাটার পরিকল্পনা নিয়ে পরিবেশবিদদের উদ্বেগ প্রকাশ পায়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর বিভিন্ন মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বনভূমি জনসংখ্যার চাপ, নগর সম্প্রসারণ, অবৈধ দখল এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই প্রবণতা উদ্বেগজনক।

এই বাস্তবতায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল, শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, সড়ক ও রেলপথের পাশ এবং খাসজমিতে ধাপে ধাপে বৃক্ষরোপণ করা হবে। কর্মসূচির আওতায় গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা ও বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। কোথায় কী ধরনের গাছ লাগানো হচ্ছে, কত বছর সেগুলো টিকে থাকছে এবং বিদ্যমান বনভূমি কতটা রক্ষা করা যাচ্ছে, সেটিই হবে প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড। তাদের মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক প্রাকৃতিক বন যে পরিবেশগত সেবা দেয়, তা নতুন লাগানো চারার পক্ষে স্বল্প সময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন সংরক্ষণকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে। বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বন আইন কার্যকর প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে বন ব্যবস্থাপনায় যুক্ত না করলে নতুন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুফল সীমিত হয়ে পড়বে।

গবেষণা সংস্থা রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের প্রধান গবেষক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, গত এক বছরে গাছ কাটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এটিকে পরিবেশ সুরক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগের সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং দেশের বড় বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে ধীর হয়ে যাওয়ায় গাছ কাটার ঘটনাও কমেছে। এসব প্রকল্প আবার পুরোদমে শুরু হলে বৃক্ষনিধনের হারও আগের মতো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এখনো অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন না করেই এবং বন অধিদফতরের পূর্বানুমোদন ছাড়াই গাছ কাটা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা, ঠিকাদার এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় না আনলে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, শুধু কতটি গাছ কাটা হলো বা লাগানো হলো, সেই সংখ্যার ভিত্তিতে দেশের বনভূমির প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। অবৈধ বন দখল, বন উজাড় এবং প্যারাবন ধ্বংস ঠেকাতে অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে স্যাটেলাইটভিত্তিক 'রিয়েল-টাইম ডিফরেস্টেশন মনিটরিং' ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে 'সবুজ অবকাঠামো' পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা জরুরি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সবুজায়ন বাড়বে, কার্বন শোষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, কংক্রিটের বিস্তার যদি একই গতিতে চলতে থাকে আর প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে নতুন চারার সংখ্যা বাড়লেও হারিয়ে যাওয়া অরণ্যের প্রকৃত বিকল্প তৈরি হবে না।

বন অধিদফতরের বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) আর এস এম মুনিরুল ইসলাম বলেন, আগামী পাঁচ বছরে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি এই তিন ধাপে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু চারা রোপণ নয়, সেগুলোর পরিচর্যা, বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ‘মাই ট্রি মনিটরিং’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি রোপিত গাছের অবস্থান, পরিচর্যা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও এ ধরনের একটি ট্রি মনিটরিং অ্যাপ চালুর প্রস্তাব ছিল।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ নামে পাঁচ দফা এ উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও শিল্পকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি টেকসই অবকাঠামো নির্মাণেও গুরুত্ব দেয়া হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার দ্বীপ ও উপকূলীয় চরাঞ্চলে প্রায় ২০০ হেক্টর এলাকায় ম্যানগ্রোভ বাগান তৈরি করা হবে। এতে উপকূলজুড়ে একটি শক্তিশালী সবুজ বেষ্টনী গড়ে উঠবে। সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়ক, মহাসড়ক ও বাঁধের প্রান্তিক জমিতে ১১ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এসব গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হবে স্থানীয় দরিদ্র জনগণের ওপর। নির্দিষ্ট সময় শেষে গাছ বিক্রি হলে এর বড় অংশের অর্থ তারাই পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক পরিবেশে তারা নিজেদের রোগব্যাধির চিকিৎসাও নিজেরাই করতে পারে।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বন সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এজন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এএইচ/এএস