- ১৬ বছরেও অডিট আপত্তি কাটেনি
- প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ
- ক্রয় প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হয়েছে
- তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন
- পার্কিং সংকট ও যানজটের সমস্যাও রয়েছে
- অতিরিক্ত ব্যয়েও প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পে একের পর এক বাড়ানো হয়েছে ব্যয়, বাড়ানো হয়েছে বাস্তবায়নের সময়সীমাও। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও প্রকল্পটির অডিট আপত্তি পুরোপুরি নিষ্পত্তি করা যায়নি। বরং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, তদারকির ঘাটতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং একই ধরনের ত্রুটির পুনরাবৃত্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রকল্পটির নিবিড় পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অতীতের অডিট আপত্তির কিছু আংশিকভাবে নিষ্পত্তি হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখনো ‘প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান’ রয়েছে। ফলে আপত্তি নিষ্পত্তির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম, তদারকি এবং জবাবদিহির দুর্বলতা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং এসব ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বা সময় কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু এক যুগের বেশি সময় ধরে একই ধরনের অডিট আপত্তি বহাল থাকা, অনিয়মের পুনরাবৃত্তি এবং দুর্বল জবাবদিহি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করতে না পারারই ইঙ্গিত দেয়। এতে শুধু একটি প্রকল্প নয়, সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের অনুমোদন হয় ২০১০ সালের ৬ জুলাই। শুরুতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় বারবার বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। সর্বশেষ সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ একটি নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগছে প্রায় ১৬ বছর।
>> আরও পড়ুন
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেক পুনঃখনন, জলাধার সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, লেক ড্রাইভ সড়ক, ওয়াকওয়ে, তীর সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং নগরবাসীর জন্য পরিবেশবান্ধব বিনোদন অবকাঠামো গড়ে তোলা। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়েছে।
শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১০ কোটি ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। পরে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫৫ কোটি ৩১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ১৪৫ কোটিরও বেশি, যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি। সংশোধিত ব্যয়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় হচ্ছে লেক খনন, তীর সংরক্ষণ, সড়ক, ওয়াকওয়ে, মাটি ভরাট, বিদ্যুতায়ন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে।
উন্নয়ন অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যয় বৃদ্ধি তখনই যৌক্তিক বলা যায় যখন তার সঙ্গে বাস্তব অগ্রগতি, কাজের গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের সামঞ্জস্য থাকে। কিন্তু এ প্রকল্পে ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে, যা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অডিট আপত্তি নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী অডিট আপত্তির কিছু আংশিকভাবে নিষ্পত্তি হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনো কার্যক্রম চলমান। ফলে আপত্তি নিষ্পত্তির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। একই সঙ্গে পুনরায় দরপত্র আহ্বান না করে একক দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার মতো বিষয়েরও পুনরাবৃত্তির উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, তদারকি এবং জবাবদিহির দুর্বলতা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তাও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী পৃথক বিশ্লেষণে দরপত্র ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি, নির্ধারিত সময়ের বেশি সময় লাগা এবং এর কারণ মূল্যায়ন করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম দুর্বল দিক ছিল ক্রয় ব্যবস্থাপনা।
প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং আর্থিক অগ্রগতির মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তাও মূল্যায়ন প্রতিবেদনে খতিয়ে দেখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভৌত অগ্রগতির তুলনায় ব্যয়ের অসঙ্গতি থাকলে তার কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৭ ঘনমিটার লেক খনন, ২ হাজার ৪৩৮ মিটার তীর সংরক্ষণ, ২ হাজার ৮৩৮ মিটার লেক ড্রাইভ সড়ক, ৮ হাজার ৮৫৮ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ১ লাখ ৬১ হাজার ঘনমিটার মাটি ভরাট, ৪ হাজার গাছ রোপণ এবং বিদ্যুতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু এত বড় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে টাইম ওভাররান ও কস্ট ওভাররানের কারণও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুসরণে বিলম্ব, দরপত্র ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতার ফলে শুধু প্রকল্পের ব্যয়ই বাড়েনি, মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারের আর্থিক চাপও বেড়েছে।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে অর্থায়নে বিলম্ব, পণ্য ও সেবা সংগ্রহে বিলম্ব, ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতা, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সময়মতো অর্থছাড়, পরামর্শক নিয়োগ, ঠিকাদার নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেককে অবৈধ দখলমুক্ত রাখা এবং জলাধারের পরিবেশ রক্ষা করা। কিন্তু মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও অবৈধ দখল ও অনিয়ম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জরিপে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, লেক এলাকায় এখনো অবৈধ দখল এবং বিভিন্ন অনিয়ম বিদ্যমান। এ সমস্যা সমাধানে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত মনিটরিং এবং আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পানির গুণগত মান উন্নয়নও প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ের জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা লেকের পানিকে খুব খারাপ, দূষিত, দুর্গন্ধযুক্ত এবং ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, এখনো লেকের পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হয় এবং দূষণ দৃশ্যমান। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
লেক এলাকায় নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, পার্কিং ও নাগরিক সুবিধা নিয়েও অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে মূল্যায়নে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নিরাপত্তাহীনতা, অপর্যাপ্ত পার্কিং, যানজট এবং প্রত্যাশিত সবুজায়নের অভাবের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে পরিকল্পিত পার্কিং জোন, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যবেক্ষণগুলোর একটি হলো, প্রকল্পের ডিপিপি ও সংশোধিত ডিপিপিতে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। অর্থাৎ প্রকল্প শেষ হওয়ার পর লেক, সড়ক, ওয়াকওয়ে, তীর সংরক্ষণ এবং অন্যান্য অবকাঠামো কীভাবে সংরক্ষণ ও পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ছাড়া শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।
মূল্যায়ন প্রতিবেদন শেষ পর্যন্ত একটি স্পষ্ট বার্তাই দিয়েছে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। সময়মতো প্রকল্প শেষ করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, অডিট আপত্তির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কার্যকর তদারকি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বছরের পর বছর অডিট আপত্তি ঝুলে থাকা, একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি এবং দুর্বল জবাবদিহি উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে।
নির্ধারিত সমাপ্তির সময় ঘনিয়ে এলেও এখন বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে, অতিরিক্ত ব্যয় ও দীর্ঘ ১৬ বছরের বাস্তবায়ন শেষে প্রকল্পটি কি সত্যিই তার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে, নাকি অমীমাংসিত অডিট আপত্তি, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের অভিযোগের ভার নিয়েই শেষ হবে রাজধানীর অন্যতম আলোচিত এই লেক উন্নয়ন প্রকল্প।
প্রকল্প পরিচালক ছাবের আহমেদ বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে প্রকল্পের যে অংশের কাজ বাকি রয়েছে, তার বেশির ভাগই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি শতভাগে পৌঁছাবে। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের আওতাভুক্ত। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতিও সম্পূর্ণ হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণ সম্পর্কে ছাবের আহমেদ জানান, মামলাজনিত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। তবে ওই ঘটনা তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের। তিনি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি সব সময় অস্বাভাবিক নয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না হওয়া, একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহির ঘাটতি উদ্বেগজনক। কোনো প্রকল্পের সাফল্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তারা বলেন, একটি প্রকল্পের ব্যয় কয়েক দফায় বাড়ানো এবং বাস্তবায়নের সময় বারবার বাড়ানোর পরও যদি অডিট আপত্তি বহাল থাকে, তাহলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের পরিস্থিতি সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং প্রকল্প তদারকির মান নিয়েও জনমনে সংশয় তৈরি করে। তাই অডিটে উত্থাপিত আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি অনিয়ম বা দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
বছরের পর বছর চলমান আট মেগা প্রকল্প!
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রায় দেড় দশক আগে যেসব বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তার অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে শুরুতে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের অধিকাংশই এখন আর রাজউকে কর্মরত নেই। ফলে প্রকল্পটির প্রতি আগের মতো প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা, দায়বদ্ধতা ও মালিকানাবোধ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রকল্পে বারবার ব্যয় বৃদ্ধি করা কোনো ইতিবাচক দৃষ্টান্ত নয়। বর্তমানে যে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা আরও বাড়তে পারে। কারণ পরিকল্পনা প্রণয়নের সময়কার বাস্তবতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কার বাস্তবতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রকল্প টেনে নেওয়ার পরিবর্তে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এনে প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করা অধিক যুক্তিসঙ্গত হতো। এরপর নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজন নিরূপণ এবং হালনাগাদ পরিকল্পনার ভিত্তিতে একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে সেটি সময়োপযোগী ও কার্যকর হতো। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে শুধু ব্যয় বাড়িয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সময়ে সময়ে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।
এএইচ/এএস




