জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাকে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) মো. ভুলু।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে প্রিন্স মামুন তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনাকে মারধর করেন। এমন অভিযোগ এনে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোহনা ভাটারা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোহনাদের বাসায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে আবারও এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন প্রিন্স মামুন। এতে মোহনা রাজি না হলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রিন্স মামুন তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন। এ সময় গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোহনার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম, ডান কান ফুলে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এরপর সকালে মামুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. ইয়াউর রহমান। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ সময় প্রিন্স মামুনের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে উভয়পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
মামলার এজাহারে বাদী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা উল্লেখ করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রিন্স মামুন দোকান করার জন্য মোহনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এক কোটি টাকা এনে দিতে চাপ দিতেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
এমআইকে/এআরএম