Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ডাকাতির পর ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে যেতেন ‘মূলহোতা জেসমিন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

রাজধানীতে ডাকাত চক্রের মূলহোতা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ডাকাতির ঘটনার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে যেতেন এবং ভুক্তভোগীদের করা মামলায় নিজেই সাক্ষী হতেন।

বুধবার (২২ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন, সজীব আলম, রিপন মিয়া ও ফারুক খান।

তালেবুর রহমান জানান, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে কামরাঙ্গীরচর থানা-পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এক জোড়া স্বর্ণের দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, গত ১৮ জুলাই রাতে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি-সংলগ্ন ১০ তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ডাকাত একটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে সেখানে থাকা তিন নারীর হাত-পা বেঁধে মারধর করে। পরে তারা নগদ প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।

ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে সেই সূত্র ধরে কামরাঙ্গীরচর থানার একটি দল মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেখানো মতে, বাসার ওয়ারড্রোবের ড্রয়ার থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে কামরাঙ্গীরচর থানার চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেখানো মতে, ভাড়া বাসা থেকে নগদ এক লাখ টাকা এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

ডিসি তালেবুর রহমান আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর এ ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২২ জুলাই) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতারকরা হয়। তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগীর বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ কারণে তিনি ওই বাসায় নগদ টাকা থাকার বিষয়টি জানতেন এবং তা লুটের পরিকল্পনা করেন। পরে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। ঘটনার দিন তিনি নিজেই ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনের নিচতলায় গ্রহণ করেন এবং ডাকাতির পর তাদের নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর জিয়াসমিন আবার ভুক্তভোগীদের বাসায় গিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেন। এমনকি এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি নিজেই সাক্ষী হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একেএস/এমআই