নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
গ্রাম ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমাজ ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন দরকার বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্রাম ও কৃষিকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তাই কৃষকের অধিকার সুরক্ষা এবং গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’-এর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি ও গ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে, কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তিনি তেভাগা আন্দোলন, নীল বিদ্রোহ, ওহাবী ও ফারায়েজী আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বাঙালির সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন।
সরকারের কৃষিবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারের দায়িত্বশীল নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী তরুণ। এই বিপুল যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে প্রথাগত সনদনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক ও জীবনমুখী কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের মাদকাসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ তৈরিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে পারিবারিক মূল্যবোধ ও মানবিক সম্পর্ক জোরদারে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের এক দশকের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
বক্তারা মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করে আগামী দিনে এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন এবং মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
এমআর/এআরএম