নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর এমেরিটাস অধ্যাপক পদে আজীবন নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতেই এটি গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নথিপত্র পর্যালোচনায় অধ্যাপক ডা. এ বিএম আব্দুল্লাহর আজীবন ‘প্রফেসর এমেরিটাস’ নিয়োগকে ঘিরে একাধিক প্রক্রিয়াগত, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান সিন্ডিকেট নিয়োগটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য প্রফেসর এমেরিটাস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগে তিনি মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী, চিকিৎসা সুবিধা এবং সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা পেতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এ নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হওয়ায় সে সময় এ নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না।
তবে ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেটের বাজেট অধিবেশনে মূল এজেন্ডার বাইরে প্রফেসর এমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধন করে আজীবন নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। একই সভায় সংশোধিত বিধান অনুযায়ী অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে আজীবনের জন্য প্রফেসর এমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এ নিয়োগের মাধ্যমে তাকে অবসরের সময়কার পূর্ণ অধ্যাপকের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, স্টাফসহ অফিস ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি এ খাতে আনুমানিক সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিএমইউ আরও জানায়, প্রফেসর এমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও অধ্যাপক আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। কেবল সিন্ডিকেটের একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই তাঁকে আজীবনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগের পর গত প্রায় দুই বছরে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, শিক্ষাদান করেননি এবং গবেষণায় সম্পৃক্ততার বিষয়েও প্রশাসনকে অবহিত করেননি। তবে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর এমেরিটাস নিয়োগের নজির থাকলেও আজীবন পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সমপরিমাণ বেতন ও এ ধরনের বিস্তৃত আর্থিক-প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার নজির পাওয়া যায় না।
বিএমইউর ভাষ্য, ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে সম্মানীভিত্তিক পদকে কার্যত বেতনভিত্তিক পদে রূপান্তর করা হয়। অথচ এ ধরনের আর্থিক পরিবর্তনের আগে অর্থ কমিটির কোনো সুপারিশ বা আর্থিক বিশ্লেষণের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে পাওয়া যায়নি। এতে আর্থিক সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, কোনো অধ্যাদেশ সংশোধনের পর একই সভায় সেই সংশোধিত বিধানের সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করা প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে বিতর্কিত এবং এ ধরনের পদক্ষেপ আর্থিক অনিয়মের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ডা. এ. বি. এম. আব্দুল্লাহর আজীবন প্রফেসর এমেরিটাস নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করে তা বাতিল করা হয়।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কোনো নিয়োগ আইনগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে বাতিল হলে সেই নিয়োগের ভিত্তিতে দেওয়া আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে ওই সময়ের বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এটি কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়; বরং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করেই করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আইন ও বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এমএইচ/ক.ম