নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
নবম পে-স্কেলের সব গ্রেডের শতভাগ মূলবেতন এক ধাপেই বাস্তবায়ন ও দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, আপনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অন্তত ১০ মিনিটের জন্য বসেন। আমাদের মনের কথা শোনেন এবং আমরা কী চাই। এত কম টাকা বেতন দিয়ে ঢাকা শহরে চলা যায় না। পে-স্কেল এক ধাপে বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হবে।
তারা বলেন, ধাপে ধাপে এক একসঙ্গে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হোক। বাজার করতে গেলে ধাপে ধাপে টাকা নেয় না। অনেকেই বলেন পে-স্কেল দিলে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে। এখন পে-স্কেল ৫০ শতাংশ বা শতভাগ যা দেওয়া হোক, নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। তবে পে-স্কেল শতভাগ বাস্তবায়ন করা হলে জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও সহজ হবে। আমরা ঠিক মতো কাজ করতে পারবো।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো পে-স্কেলই দুই ধাপের বেশি সময় নিয়ে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে ২০২৬ সালের নবম পে-স্কেল তিন ধাপে তিন বছরে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যার প্রথম ধাপে বেসিকের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার আলোচনা রয়েছে। পে-স্কেল কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে মাত্র ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক স্বস্তি দেবে না।
বেসিক ভেঙে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে কর্মচারীদের জীবনে পে-স্কেলের কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে না। বেসিক বিভাজনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হলে আইবাস ব্যবস্থাপনা, পিআরএলভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকেই প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন। দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বারবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নিতে পারে, যার বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ কর্মচারীদের।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও যদি কর্মচারীদের নতুন করে ঋণের বোঝা বহন করতে হয়, তবে পে-স্কেলের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ সৃষ্টি হলে সেবার মান ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলে ভাতাসমূহ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে; তবে মূল বেতন একবারেই কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি। পূর্ণাঙ্গ মূল বেতন বাস্তবায়নের পূর্বে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার করা অযৌক্তিক ও অমানবিক হবে বলে মনে করছি।
একই সাথে ২০১৫ সালে রহিত ৩ টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পূনর্বহাল, শত ভাগ পেনশন উত্তোলন, এবং পেনশন গ্রাচুইটি ২৩০ টাকা পরিবর্তে দ্বিগুণ করার জোর দাবি করছি, এছাড়া সময়োপযোগী টিফিন ভাতা, শিক্ষা ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধির দাবি করছি।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, আমরা একটি স্বনির্ভর, সুশাসনভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই; এর জন্য সন্তুষ্ট ও কর্মউদ্দীপ্ত জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত আবেদন দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম পে-স্কেলের শতভাগ মূল বেতন এক ধাপেই বাস্তবায়ন করে প্রতিটি পরিবারের মুখে হাসি ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম, সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক শিমুল আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন মুন্সী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিন খান, সোহানা মির্জা,মেহেদি,মো: মনির, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসান ও সোহেল রানা, এবি বেগম, আমেনা বেগম ও আজিজুর রহমান।
এছাড়া সরকারি গাড়িচালক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. সালেক খান, অর্থমন্ত্রণালয় আর ডি. কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, টেকনিক্যাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন বুয়েটের সভাপতি মো. এ এস এম শাহিনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/এআরএম