শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ফল মেলায় আমের জয়জয়কার, নজর কাড়ছে মিয়াজাকি ও ‘থ্রি টেস্ট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

Fruites news
তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলায় দেশীয় ও বিদেশি নানা জাতের ফলের সমারোহে জমে উঠেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলায় দেশীয় ও বিদেশি নানা জাতের ফলের সমারোহে জমে উঠেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতের আম, নরসিংদীর বিখ্যাত ঘোড়াশাল আনারস এবং জাপানি মিয়াজাকি আমকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি স্টলেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি আম। হিমসাগর, গোপালভোগ, আম্রপালি ও ল্যাংড়া জাতের আম মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকে একসঙ্গে ১০ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


মেলায় অংশ নেওয়া ন্যাচারস ফ্রুটের স্টলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বিখ্যাত ‘ঘোড়াশাল’ আনারস প্রদর্শন করা হয়েছে। মিষ্টি স্বাদ, আকর্ষণীয় ঘ্রাণ ও রসালো বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব আনারসের সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয় বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় এ আনারসের বাজার এখন ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, আলহামদুলিল্লাহ এগ্রোর স্টলে ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’। অনেকেই তুলনামূলক কম দামে এই আম কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই স্টলে প্রদর্শিত ‘থ্রি টেস্ট’ নামের বিশেষ জাতের আমও দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। উদ্যোক্তা মুরাদ শেখ জানান, এই আম কাঁচা অবস্থাতেই মিষ্টি স্বাদের হয় এবং খোসাসহ খাওয়া যায়। পাকা অবস্থায়ও এর স্বাদ অনন্য। তিনি জানান, দিনাজপুরে বিদেশি বিভিন্ন জাতের আমের চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে জাপানি জাতের মিয়াজাকি আম। রাজশাহীতে উৎপাদিত এই প্রিমিয়াম আম প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দকমাই, চিয়ানমাই, রেড পামারসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আমও প্রদর্শন করা হচ্ছে বিভিন্ন স্টলে।


বিজ্ঞাপন


শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজের মালিক আনসার আলী বলেন, বর্তমানে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন ও বারি-৪ জাতের আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন ও বিদেশি জাতের আমের চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মেলায় আম কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বাবুল আহমেদ বলেন, প্রতি বছর ফল মেলার জন্য অপেক্ষা করেন তিনি। মেলায় তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের ফল পাওয়া যায় বলে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ আম কিনে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জাতীয় ফল মেলায় মোট ৬৭টি স্টল অংশ নিয়েছে। দেশীয় ফলের উৎপাদন, বিপণন ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত মেলাটি শনিবার পর্যন্ত চলবে।

এমআর/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর