নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আওয়ামী লীগের শাসনামলে বৈষম্যের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া সাংবাদিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস এবং জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রা পুনরায় চালুর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এই গণমাধ্যমগুলোর ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত মূল্য রয়েছে। তাই এগুলো পুনর্গঠন করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজ ও প্রযুক্তিতে অনেক পরিবর্তন এলেও সাংবাদিকদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি বলেন, আমাদের একজন যোগ্য তথ্যমন্ত্রী আছেন। আমি আশা করব, তিনি এই ঐতিহ্যবাহী বন্ধ গণমাধ্যমগুলো পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেবেন।
প্রয়োজনে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে নতুন নতুন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি। ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল আমলেও তা দেখা গেছে, আবার গত ১৫ বছরের দুঃশাসনেও সেটি প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরের শাসনামল নিয়ে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ও যৌথ ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার জন্য তিনি সাংবাদিক ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি তদারকির অনুরোধ করেন।
বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার চেষ্টা চালালেও কিছু করপোরেট গণমাধ্যমের মালিক অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গতকাল আমাদের প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এটি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমি এ অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সাংবাদিক সমাজকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।
দলীয় অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়; এটি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি সবসময় ভিন্নমতকে সহ্য করার রাজনীতি করে। ফলে এটি দেশের সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল, যেখানে সাংবাদিকসহ অন্যান্য পেশাজীবীরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন।
তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধের যে কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তা যেন রাষ্ট্রীয় জীবনে আর কখনো ফিরে না আসে—আজকের দিনে সেটিই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএফইউজের সহসভাপতি খায়রুল বাশার ও এ কে এম মহসিন, সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
এআর