তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল জায়গায় দাঁড় করানোর জন্য সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন। গণমাধ্যম সঠিক ভূমিকা পালন করলে রাষ্ট্র ও ক্ষমতা সবসময় জবাবদিহিতার মুখোমুখি থাকবে এবং এর সুফল দেশের মানুষ পাবে। এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম থাকা প্রয়োজন।’
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। ৫১ বছর পর সেই কালো দিবসের স্মরণে ফিরে তাকালে অতীত ও বর্তমানের সংকটকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। তৎকালীন রাষ্ট্র গণমাধ্যমের প্রতি কর্তৃত্ববাদী আচরণ করলেও বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।’
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে প্রতিনিয়ত অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য তৈরি হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তা মুহূর্তেই কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের নামে ভুয়া তথ্য ও বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। তাই শুধু অতীতের সংকট নিয়ে আলোচনা না করে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’
গণমাধ্যমকে একটি সুসংহত কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার স্বাধীনতা দিলেও মালিকপক্ষ যদি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, ন্যায্য বেতন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করে, তাহলে সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বসে থাকতে পারে না। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যম খাতের সার্বিক সমস্যা সমাধানে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আগামী ১৮ জুন অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সম্পাদক পরিষদ, অ্যাটকো এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই বিএফইউজে, ডিইউজে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আয়োজন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান যুগে গণমাধ্যমের সংকট ও চ্যালেঞ্জ অতীতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের ফলে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে গভীর উপলব্ধি নিয়ে উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে হবে।’
নাগরিক সাংবাদিকতার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রিন্ট, টেরিস্ট্রিয়াল, ডিজিটাল ও স্যাটেলাইটসহ সব ধরনের গণমাধ্যমকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের প্রচলিত আইন মেনে কর্মীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সৎ ও সৃজনশীল গণমাধ্যম উদ্যোক্তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।’
তথ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সম্মিলিত উদ্যোগে বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা সম্ভব হলে তা ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
এম/এমআই




