জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
দেশজুড়ে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, মহাসড়কে গতিসীমা লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে আজকের প্রশ্নোত্তর টেবিলে এটি উপস্থাপিত হয়।
লিখিত উত্তরে সেতুমন্ত্রী জানান, সড়ক-মহাসড়কে মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪’ জারি করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এই নির্দেশিকা জারি করে, যা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতর কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (ITS) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে গতিসীমা লঙ্ঘনকারী যানবাহন সহজেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, এ ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে অধিদফতর যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সাইনেজ ও ট্রাফিক সাইন: মহাসড়কগুলোতে স্পিড লিমিট ও ট্রাফিক সাইন স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা।
গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Traffic Calming): ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রাম্বল স্ট্রিপ (Rumble Strip), স্পিড কন্ট্রোল জোন, সার্ভিস লেন, মিডিয়ান ও চ্যানেলাইজেশন নির্মাণ করা।
ব্ল্যাক স্পট শনাক্তকরণ: নিয়মিত ‘রোড সেফটি অডিট’ ও ট্রাফিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সড়কের অতি ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ শনাক্ত করে দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সেতুমন্ত্রী আরও জানান, সড়কের ধরন ও এলাকা বিবেচনা করে উপযুক্ত গতিসীমা নির্ধারণের সুপারিশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
বিইউ/এফএ