images

জাতীয়

বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে যত মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। 

রোববার (১৪ জুন) ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ পুলিশ ও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর ভিত্তিতেই এ গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 

কিন্তু কতটি মামলা আছে সাবেক এই পুলিশ প্রধান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে?

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সূচনা হয় ২০২৪ সালে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ও পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। অনুসন্ধানে শত শত বিঘা জমি, একাধিক ফ্ল্যাট, রিসোর্ট, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য উঠে আসে। পরে আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদের বড় অংশ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্তে তার ঘোষিত আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। পরে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়। 

একই দিনে তার স্ত্রী জীশান মির্জার বিরুদ্ধে পৃথক অবৈধ সম্পদ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তার নামে থাকা বিভিন্ন সম্পদ ও আর্থিক বিনিয়োগের বৈধ উৎসের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। 

বেনজীর আহমেদের বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করা হয়। দুদকের দাবি, তার নামে থাকা কিছু সম্পদের উৎস ও মালিকানা নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। 

ছোট মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে তার নামে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কিছু সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়। 

এরপর ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার বৈধ উৎস সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। 

মামলাগুলোর তদন্ত চলাকালে আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি বিদেশে অবস্থান করায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বেনজীরের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয় এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গত শুক্রবার (১২ জুন) দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বেনজীর আহমেদ। খুব শিগগির তাকে দেশে আনা হবে বলে আজ (রোববার) সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

এএইচ/এএইচ