images

জাতীয়

আদ্‌-দ্বীনের রোগীদের ৬ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের ঢাকার ছয় সরকারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১১ জুনের স্মারক মোতাবেক আদ্‌-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওই হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে তাদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হলো।

ছয় হাসপাতাল হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।

ঈদুল আজহার আগের দিন গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এছাড়া, ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল।

তদন্তে আরও উঠে আসে, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কোনো সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত সেবিকাদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। শোকজের জবাব সন্তুষ্ট না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 

এমআই