জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ঢাকার তুরাগ নদীতে বস্তাবন্দী অবস্থায় অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পিবিআই জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল হানিট্র্যাপ। প্রথমে লোকমানকে ফাঁদে ফেলে একটি বাসায় নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন এস এম সালমান (২৯), আদিব ইসলাম (১৯), জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আনিবা জারা (২১) ও সবুজ মিয়া (৩৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হানিট্র্যাপে ফেলে বিকাশে টাকা নেওয়ার প্রমাণপত্র এবং লুণ্ঠিত প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। চক্রের চার সদস্যকে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের কলাতলী, ঢাকার খিলক্ষেত ও টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: তুরাগে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ৪
তারা লোকমানকে টঙ্গী পশ্চিম থানার পাখির বাজার এলাকার হোন্ডা রোডে ডেকে নেন। এরপর মাদক সেবনের কথা বলে তার কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। কিন্তু লোকমান তা দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় অকথ্য মারধর। মারধরের একপর্যায়ে লোকমান মারা যান। এর আগে তারা তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিল। এরপরও তাকে হত্যা করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, বস্তাবন্দী ওই লাশটি লোকমান সরদারের। তিনি পেশায় একজন চালক ছিলেন। গত ৩০ মে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে তার খোঁজ না পেয়ে স্ত্রী ফারজানা আক্তার চলতি মাসের ২ জুন দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলার সূত্র ধরেই ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পিবিআই। এর আগে তুরাগ নদীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম জানান, গ্রেফতাররা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। এরপর ভাই-বোন ও বন্ধু পরিচয় দিয়ে বাসায় ডেকে এনে দেহ ব্যবসা বা মাদক সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করতেন। তারা উঠতি বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ড্রাইভারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে টার্গেট করতেন। গ্রেফতাররা হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য।
পিবিআই জানিয়েছে, নিহত লোকমান হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির প্রাইভেটকার নিয়ে ঢাকায় রাইড শেয়ারিং করতেন। গত ৩০ মে প্রতিদিনের মতোই তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। এক পর্যায়ে নিহতের ভাই বায়েজিদ সরদারের কাছে গৌরনদী থানা পুলিশ ফোন করে জানায়, রাজধানীর তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাত ব্যক্তির বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর পরিবার থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, লোকমানকে হত্যার আগে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের কারণে তার কাঁধ থেকে আঙুল পর্যন্ত চামড়া ছিঁড়ে যায়, বাম হাত কনুই থেকে ভেঙে যায় এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে যায়। লাশ উদ্ধারের সময় এসব আলামতও পাওয়া গেছে। পরে বস্তাবন্দী করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এমআইকে/এআর