সাখাওয়াত হোসাইন
২৮ মে ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
বুধবার (২৭ মে) দুপুর দেড়টা। রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশজুড়ে তখন শোক আর আহাজারি। একের পর এক নবজাতকের মরদেহ কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছিলেন স্বজনরা। কারও বুকফাটা কান্না, কারও চোখে নীরব শোকের ছাপ। সন্তান হারানোর বেদনায় যেন ভারী হয়ে উঠেছিল পুরো হাসপাতাল এলাকা।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের অযত্ন, অবহেলা ও চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মারা গেছে তাদের নবজাতকরা। ঘটনার বিচার এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা।
ঢাকার দোহার থেকে সুন্দরভাবে সন্তান প্রসবের আশায় চার দিন আগে এসেছেন ফারিয়া বেগম। তার সঙ্গে এসেছেন স্বামী সাঈদুর রহমান ও মা জানু বেগম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দিনই ফারিয়ার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে প্রথম কন্যা সন্তান। কন্যাকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ফারিয়া-সাঈদুর রহমান ও আত্মীয়-স্বজনরা। তবে সেই আনন্দ আর বেশিদিন স্থানীয় হলো না।
বুধবার (২৭ মে) সকালে তাদের একমাত্র শিশু সন্তান মারা গেছে। শুধু ফারিয়া ও সাঈদুর রহমানের সন্তানই নয়, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবহেলায় বুধবার (২৭ মে) সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত একেক করে ঝড়ে গেছে ছয়টি নিষ্পাপ শিশু।
জানু বেগম ঢাকা মেইলকে বলেন, শিশু সুস্থ ছিল। গতকাল সন্ধ্যায়ও তিনটা পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং কোন ত্রুটি রাখিনি; সবকিছু ঠিক ছিল। আমাদের সন্তানকে মেরে ফেলেছে। আর কারো মায়ের কোলখালি করতে না পারে। আল্লাহ যেন মেয়েটাকে এবং ছেলেটাকে ধৈর্য দেয়। কত সাধনার পর এই সন্তানটা পেলাম।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে শিশুটা কান্না করে উঠে। ওই সময় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তার আর নার্স ছিল না।
টাকা বুঝে, বুঝে না সেবা
রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না, ঠিক মতো সেবা দেয় না। নার্সদের রয়েছে বেপরোয়া আচরণ। ডাক্তারদের নাগাল পাওয়া খুবই কঠিন।
গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মেয়ের সন্তান প্রসব করার জন্য এসেছেন হারুন আহমেদ ও তার স্বজনরা। হাসপাতালের গেইটে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা হয় হারুনের। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটার ভালোর জন্য এই হাসপাতালে আসছিলাম। টাকা ছাড়া কোনো কিছু বুঝে না আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এক তলা থেকে আরেক তলায় পাঠানো হয়। শিশুদের মৃত্যুর সময় কোনো নার্স ছিল না। টাকা বুঝলো, কিন্তু সেবাটা বুঝলো না। অবহেলায় শিশুর মৃত্যু হলো এই কষ্ট কীভাবে রাখবো।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটাকে গতকাল ভর্তি করিয়েছিলাম। আর আজকে তার সন্তানটা মারা গেল হাসপাতালে। ঈদের সময় কোথাও যেতে পারি না। দুটি সরকারি মেডিকেলে গিয়েছিলাম যেখানে ডাক্তার আর নার্স নাই এবং ভর্তিই নেয় না রোগী। কোন দেশে আসলাম বুঝলাম না। এরপর ১০০ টাকার ওষুধ রেখেছে ৩০০ টাকা এবং এক হাজার টাকার ইনজেকশনের দাম রেখেছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। টাকা তো আমাদের থেকে কম নেয়নি। সবার আগে টাকা নেয়, আমরা তো সেবা চাই। একের পর এক ওষুধ দেয়, কিন্তু কোনো কাজ হয় না। গতকাল থেকে কোনো ডাক্তার নাই।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ভাজিতা দেখতে এসেছেন নাদিম হোসেন। তার ভাতিজাও মারা গেছে আজ সকালে। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে বাসায় ফোন আসছে, বাচ্চা আর লড়া-চড়া করছে না এবং দুধ খাচ্ছে না। এরপর হাসপাতালে এসে দেখি... এই অবস্থা। হাসপাতালে ওয়ার্ডে ১১ জন শিশু মারা গেছে। প্রথমে দুজন লাশ নিয়ে চলে গেছে সাধারণ মৃত্যু ভেবে। এরপর আরো কয়েকটা শিশু মৃত্যু হলো। আমি মোট ৫-৬টা দেখেছি।
নাদিম হোসেন বলেন, আমার ভাতিজা মারা গেছে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে, কিন্তু ডেথ সার্টিফিকেটে লিখেছে এনআইসিইউতে মারা গেছে। ওরা এমনভাবে লিখছে যেন মনে হবে কিছুই হয়নি। আসলে ওয়ার্ডটা ভয়ঙ্কর একটা জায়গা। গ্যাসের জন্য দম বন্ধ হয়ে আসে এবং মানুষ থাকার মতো নয়।
ঢাকার তেজগাঁও থেকে স্ত্রীর সন্তান প্রসব করাতে এসেছেন সাইফুল ইসলাম। এটি তাদের প্রথম সন্তান, তাই তাদের মধ্যে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসও আলাদা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত বাচ্চাটা (কন্যা) ঠিক ছিল। বাচ্চা খায় এবং ঘুমায়; সবই করে। তিন দিন হয়েছে বাচ্চাটা হয়েছে। বাচ্চা এবং মায়ের সবকিছুই ঠিক ছিল, এটা ডাক্তারের মুখের কথা। আজকে রিলিজ দেওয়ার কথা দিবে এবং আগামীকাল বাচ্চাসহ বাড়িতে ঈদ করার কথা ছিল। ১২টার হঠাৎ করে বাচ্চা চিৎকার করে শুরু করেছে। চিৎকারের কিছুক্ষণ পর বমি করে। নার্স আর ডাক্তার সবাইকে খুঁজেছি, কাউকে পাইনি।

তিনি আরও বলেন, পরে আমরা বাবুকে এনআইসিইউতে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে বলা হয়, শিশুর পালস নাই। এরমধ্যে তারা আমাকে দুটি বিল ধরিয়ে দেয় একটি ওষুধের আরেকটি বি-কাউন্টারে টাকা ২০ হাজার জমা দেওয়ার জন্য। এরপর আমি বলি রোগীটা আগে দেখি, আমাকে বলে ইউনিফর্ম পরা লাগবে। এরপর যাওয়ার পর বলে, আপনার বেবির পালস পাই না এবং মারা গেছে।
সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, তিনি ওয়ার্ডে ১৫টি শিশুকে দেখেছেন এবং ১১টি শিশু মারা গেছে। এরমধ্যে কয়েকজন শিশুকে নামে-বেনামে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রাম থেকে অনেকেই এসেছেন এবং অনেক কিছুই তারা বুঝেন না; তাদেরকে বলা হয়েছে, সাধারণ মৃত্যু হয়েছে। যারা দূর থেকে এসেছেন, তারা শিশুর লাশ নিয়ে তাড়াতাড়ি গ্রামের দিকে চলে গেছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশু পোস্ট মর্টেম করতে চাই না। তার ডেথ সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে। পোস্ট মর্টেম করে কী করবো বলেন, সবই তো হারিয়ে ফেললাম।
নিষিদ্ধ এসি ব্যবহার
হাসপাতালে ব্যবহারে নিষিদ্ধ ও অনুমোদনহীন স্প্লিট এসি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসি বিশেষজ্ঞ ও অ্যাশরে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি মো. হাসমতুজ্জামান। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে স্প্লিট এসি ব্যবহার করা হয়েছে, এটি হাসপাতালে ব্যবহার নিষিদ্ধ। থাকার কথা ছিল সেন্ট্রাল এয়ারকন্ডিশন। স্প্লিট এসি ব্যবহার করা হয়েছে খরচ বাঁচানোর জন্য, এটি কার্যত হাসপাতালে নিষিদ্ধ। ধরেন, সেন্ট্রাল এসি ব্যবহারে খরচ ১০০ টাকা হলে স্প্লিট এসি ব্যবহার খরচ হয় ২০-৩০ টাকা।
হাসমতুজ্জামান বলেন, টেলিভিশনে এয়ারকন্ডিশনের গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে স্প্লিট এসি রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, স্প্লিট গ্যাস ভর্তি থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এয়ারকন্ডিশন মেশিন পরীক্ষা করলে বোঝা যাবে ভেতরে গ্যাস ছিল কি না। এখানে স্প্লিট এসি এখনো পরীক্ষা করা হয়নি, তাই ঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না কেন এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
হাসমতুজ্জামান বলেন, এসি বসানোর যে, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড রয়েছে, সেটি এই হাসপাতালে মানা হয়নি। হাসপাতালের জন্য ভিয়ার এসি, প্যাকেজ এসি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। কারণ যখনই এসির গ্যাস লিকেজ হবে, কেউ তো দৌড়ে পালাতে পারবে না। ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড সম্পূর্ণভাবে অমান্য করা হয়েছে। স্প্লিট এসি হাসপাতালে কখনো থাকতে পারে না। হাসপাতালে ব্যবহার হয় সেন্ট্রাল এসি এবং সেন্ট্রাল এসি হাসপাতালে ব্যবহার করার জন্য অনুমোদিত। এই হাসপাতালে সেন্ট্রাল এসি নেই।
৩ সদস্যের কমিটি, ৩ দিন সময়
৬ শিশুর অফিসিয়াল মৃত্যুর পর হাসপাতালটিতে পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন কর্মকর্তারা। এ সময় তদন্ত কমিটি করার কথা জনান প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে দিয়ে জানায়, ঢাকার বড় মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতক শিশুর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। কমিটি আগামী ৩ দিনের মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং প্রতিকারের জন্য করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিবে। প্রয়োজনে যে কোন সদস্য কোঅপ্ট করতে পারবে।
৩ সদস্যের কমিটির মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা যুগ্মসচিবকে সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল-১ শাখার উপ-পরিচালককে সদস্য সচিব এবং অধিদফরের আইন শাখার সহকারী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৬ নবজাতকে লাশ হস্তান্তর
আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে মারা যাওয়া ৬ নবজাতকের ময়নাতদন্ত না করেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তাদের বুঝিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছোট ছোট শিশুর পারিবারিক ইমোশন এখানে জড়িত। যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত দেওয়া হয়েছে, তাই মরদেহগুলো হরিপাল গুলুর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তের জন্য ময়না তদন্তটা হলে ভালো ছিল। কিন্তু পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা করা হয়নি। কিন্তু সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ও ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। এসব নমুনা ফরেন্সিক করার পর আমরা মৃত্যুর আসল কারণ আশা করি জেনে যাব।
মায়ের অনুরোধে বন্ধ ছিল এসি, দাবি আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষের
ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এক মায়ের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখায় শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে সিজারের পর মা ও নবজাতকদের রাখা হয়। বাচ্চারা সুস্থ ছিল। রাতে কোনো এক বাচ্চার মা এসি বন্ধ রাখতে বলেছিল। অনেক সময় গরম বা ঠান্ডা লাগার কারণে চাহিদামতো এসি বন্ধ বা চালু রাখা হয়। ওই রুমে কোনো ভেন্টিলেশন ছিল না, তাই হয়তো এসি বন্ধ রাখায় শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে দুটি বাচ্চা হঠাৎ একটু অসুস্থ হওয়ায় তাদেরকে নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা ভালো দেখে পরে আবার ওয়ার্ডে ফেরত পাঠিয়ে দেন। ভোর ৬টার দিকে দায়িত্বরত নার্স দেখেন যে ওয়ার্ডের বাচ্চাদেরকে অসুস্থ মনে হচ্ছে।
এ সময় বাচ্চাদের মায়েরা একই কথা বলেন। পরে দ্রুত তাদেরকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা দুটি নবজাতককে ব্রট ডেড (আগেই মৃত) অবস্থায় পায়। বাকি চার নবজাতকও ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। তাদেরকে দ্রুত ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু তাদেরকে আর বাঁচানো যায়নি।
এদিকে ওই ওয়ার্ডে ১১ জন নয়, ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাহিদ ইয়াসমিন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে ওই ওয়ার্ডে ১১ জন প্রসূতি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ছয়টি শিশু ছিল। বাকি পাঁচটি শিশু আগে থেকেই কোনো না কোনো জটিলতার কারণে এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকায় ভালো আছে। ভোর ৬টার দিকে একসঙ্গে ছয়টি শিশুর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত নার্স ও চিকিৎসকেরা তাদের এনআইসিইউতে নিয়ে ভেন্টিলেটরে দেন। কিন্তু এর মধ্যেই দুটি শিশুকে মৃত পাওয়া যায় এবং বাকি চারটিকেও ডাক্তারদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি।
দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস
আদ-দ্বীন হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অবহেলার কারণে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। এসির সঙ্গে অক্সিজেন সাপোর্টের একটি সংযোগ ছিল। সেখানে তারা এসি বন্ধ করে দেয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেটি চালু করা হয়নি। এদিকে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ছয়টি শিশু মারা গেছে।’
এসএইচ/এআরএম