images

জাতীয়

ঈদের সকালে পুরান ঢাকার অলিগলিতে গোবর–বর্জ্য, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৮ মে ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

ঈদুল আজহার দিন সকালে পুরান ঢাকার অলিগলিতে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল কোরবানির পশুর গোবর, বর্জ্য ও দুর্গন্ধ। ঈদের আগের রাতেই সড়ক পরিষ্কার করার পুরোনো চিত্রের সঙ্গে এবার মিল না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

তাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ঈদের রাতে সড়ক ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হলেও এবার সকাল গড়ালেও অনেক এলাকায় পড়ে ছিল ময়লা-আবর্জনা। এতে চলাচলে যেমন দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।

df3241b9-ca1f-495b-994a-6663d7c9d5b5

বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার সকালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালের লালমোহন সাহা স্ট্রিটে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা লায়ব্বর আলীর সঙ্গে। গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করা এই ব্যক্তি বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগের রাতে গরুর হাটের গোবর ও ময়লা ধুয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু এবার তারা কী করতাছে বুঝবার পারতাছি না। আমাগো জীবনে এই প্রথম এই চিত্র দেখবার লাগছি। গোবরের গন্ধে তো হাঁটবার পারছি না।

তিনি আরও বলেন, আগে ঈদের চাঁদরাইতেই সব ধুইয়া-মুইছা সাফ কইরা দিত। কিন্তু এখন কী করতাছে বুঝবার পারতাছি না।

তার সঙ্গে থাকা মামুন নামে এক গাড়ির পুরান পার্টস বিক্রেতা বলছিলেন, প্রতি বছর চান রাইতের চারটা থাইকা পরিষ্কার করা শুরু হয়। বুলডোজার আইসা বড় বড় গাড়ি আইসা ময়লা ভোরের আলো ফুটবার আগে সব পরিষ্কার করে চইলা যায়। কিন্তু এবার তো সকাল সাড়ে দশটা বাজতাছে অহনো গাড়ি আইলো না। 

তার সঙ্গে থাকা রুবেল বলছিল, প্রতি বছর গাড়ি আইসা ময়লা নিয়া যায়। এবার দেখছি কয়েকজন লোক ময়লা তুলতাছে। তার মানে এইগলা পরিষ্কার করতে ওগোরে বিকেল হয়া যাইবো। 

তার কথার সূত্র ধরে কিছুদূর এগিয়ে লালমোহন সাহা স্ট্রটের মোড়ে কয়েজন পরিচ্ছন্ন কর্মীকে ময়লা তুলে নিতে দেখা গেল।  

রুম্মান নামে একজন এ এলাকার বাসিন্দা বলেন, হাট হইবো ঠিক আছে কিন্তু সিটি লোকজন তো তাগোরে কাজটা ঠিক মতো করব নাকি! তারা যদি ঈদের দিন ঘুমায় আমরা নগরবসী যামু কই?

তাঁতীবাজার মোড় থেকে ধোলাইখাল যাওয়ার রাস্তাটি এখনো গোবর আর হাটের ময়লায় ভরা। সাড়ে দশটার পর কয়েকজন কর্মীকে ময়লা পরিষ্কারের জন্য আসতে দেখা গেল৷ তারা এসে প্রথমে রাস্তার ডিভাইডারে হাটের পশু বাধানো বাঁশের খুঁটিগুলো সরাতে শুরু করলো তারা। তবে ততক্ষণেও গোবর পরিস্কারের কোনো তাগাদা ছিল না তাদের। 

এমআইকে/এআরএম