জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৭ মে ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ঈদের আগে ফাঁকা ঢাকায় বেপরোয়া গতির কারণে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর প্রগতি সরণির নর্দ্দা নতুন বাজার এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে ডিভাইডার ভেঙে ধাক্কা দিলে অপর একটি বাসের চারজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ আরও অন্তত ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা উত্তরা অভিমুখী ‘ইসলাম পরিবহন’ নামের বাসটি বেপরোয়া গতিতে নর্দ্দা এলাকা পার হচ্ছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের মাঝখানের রোড ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনে চলে যায়। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী ‘আকাশ পরিবহন’ নামের একটি বাসকে সেটি সজোরে ধাক্কা দেয়। ইসলাম পরিবহনের আকস্মিক ধাক্কায় আকাশ পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। বাসের ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় হতাহতদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বারিধারা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভাটারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই ঘাতক ইসলাম পরিবহনের চালক ও হেলপার বাসটি ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি জব্দ করে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ইসলাম পরিবহনের অক্ষত কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, পটুয়াখালী থেকে ছাড়ার পর থেকেই চালক অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ঈদের আগে রাস্তা ফাঁকা থাকায় চালক যাত্রীদের নিষেধ ও সতর্কতা সত্ত্বেও বাসের গতি কমাননি, যার ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাটারা থানার এসআই নেসার উদ্দিন জানান, গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের বাসে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিল ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের বাসের ধাক্কায় আকাশ পরিবহনের বাসটি অনেকটা দূরে সরে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান একজন নারী যাত্রী। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট চার যাত্রী নিহত ও অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিইউ/এফএ