images

জাতীয়

অগ্নিদগ্ধ সেই দুই শিশুর দায়িত্ব নিলেন এমপি নোমান

২২ মে ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। মাতাপিতাহীন হয়ে দুই শিশু আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাস (৬) অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বেঁচে যান। এখন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন তাদের দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। আগুনে দগ্ধ হয়ে বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪ বছরের আয়েশা ও ৬ বছরের ফারহান আহমেদ আনাস। মাতাপিতাহীন এই দুই শিশুর চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিয়েছেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে আশ্বাস দেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার অগ্নিদগ্ধ রোগীদের দেখতে মেডিকেলে যান এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।

ইনস্টিটিউটে গিয়ে সাঈদ আল নোমান ডাক্তার ও স্বজনদের কাছ থেকে দগ্ধ দুই শিশুর সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসার খরচ সরকারের পক্ষ থেকে বহন করার কথা জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ফেরার পর যেন চিকিৎসাসেবায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডাক্তারদের সঙ্গেও কথা বলেন।

সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘কষ্ট লাগে, একটি পরিবার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই দুটি বাচ্চা ছাড়া আর কেউ নেই। আল্লাহর রহমতে তারা বেঁচে গেছে, এখন বাকি জীবনটা যেন তারা সুন্দরভাবে কাটাতে পারে। এই ঘটনাটা যেন সারাজীবন তাদের বয়ে বেড়াতে না হয়, সেজন্য একজন বাবা ও একটি পরিবারের প্রধান হিসেবে তাদের কাছে বারবার ছুটে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিশু দুটির জন্য এয়ার কন্ডিশনের ব্যবস্থা ও পড়াশোনার ব্যয়ভার গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি দগ্ধ শিশুদের পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় এক বছর তারা স্কুলে যেতে পারবে না, সেকথা বিবেচনা করে পরিবারকে গৃহশিক্ষক রাখতে অনুরোধ জানান এবং শিক্ষকের বেতন তিনি বহন করবেন বলে জানান। এ ছাড়া ঈদুল আজহায় শিশুদের কেনাকাটার জন্য তিনি নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

আয়েশা ও আনাসের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তারা এ মুহূর্তে শঙ্কামুক্ত। পুরোপুরি ক্ষতিপূরণ কখনোই সম্ভব নয়, তবে মানসিক সাপোর্ট ও সেবাশুশ্রূষা পেলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার চারতলা একটি ভবনের তিন নম্বর তলায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আগুন লেগে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন মারা যান। পরে হাসপাতালে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে শিশু দুটির বাবা-মাও ছিলেন।

এমআইএইচ/এমআই