নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
থ্রি-স্টার হোটেল ও জমির শেয়ার বিক্রির নামে ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
রোববার (১০ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতের নাম হায়দার কবির মিথুন। তিনি হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদে কর্মরত ছিলেন।
সিআইডি জানায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তরখান থানার পাশে ১০ কাঠা জমির উপর (জি+৯) তলা বিশিষ্ট চার ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণ করে মোট ৩৬টি শেয়ার বিক্রয়ের প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণায় প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কেনার উদ্দেশে টাকা বিনিয়োগ করেন। ভুক্তভোগী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানির অফিসে দেন।
এসময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার, আইটি ও একাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর এক বন্ধু মোট ৯ লাখ টাকা দেন।
অভিযুক্তরা গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের বিপরীতে কোম্পানির নিজস্ব মানি রিসিট ও চেক দিলেও পরবর্তীতে শেয়ারভুক্ত জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।
পরবর্তীতে গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আসামিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও মৌজার জমির শেয়ার বিক্রয়ের নামে আনুমানিক ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রতারণাপূর্বক আত্মসাৎ করেছে।
সিআইডি আরও জানায়, গ্রাহকরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়। একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন, কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
নতুন পরিচালনা পর্ষদের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কোম্পানিতে যারা আর্থিক লেনদেন করেছে, সে দায়ভার তারা গ্রহণ করবে না। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করে।
মামলাটির তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত হায়দার কবির মিথুন কোম্পানির ডিএমডি পদে থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের কাজে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত সকল মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যান।
এরপর আসামি গত শনিবার (৯ মে) মধ্যরাতে বিদেশ থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলাটি তদন্তকালে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তর বিরুদ্ধে রাজধানীর আরও কয়েকটি থানায় প্রতারণামূলক প্রায় পাঁচটির বেশি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানায় সিআইডি।
একেএস/এএইচ