images

জাতীয়

প্রাণিখাদ্য উন্নয়নে ৮ হাজারের বেশি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

প্রাণিখাদ্য উন্নয়নে সরকারিভাবে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। এর অংশ হিসেবে দেশে ইতোমধ্যে ৮ হাজারের বেশি উচ্চফলনশীল ঘাসের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও মানসম্মত পশুখাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণীর জন্য নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে পোলট্রি খাদ্যের নিরাপদ ও মানসম্মত উৎপাদন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। একই সঙ্গে জলবায়ু সহনশীল ঘাস চাষের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পশুখাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন জেগে ওঠা চর, খাসজমি ও পতিত জমিতে প্রাকৃতিক পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’

পশুখাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ভেজাল, ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ লক্ষ্যে ‘মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০’ সংশোধনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি, আইনি বিধান স্পষ্টকরণ এবং উৎপাদন, বিপণন ও আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স ও নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরো কঠোর করা যায়।

চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিখাদ্য পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৮,৯০৬টি উচ্চফলনশীল ঘাসের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮,১৪৪টি খামারে সাইলেজ প্রযুক্তি এবং ১৭টি খামারে (সংরক্ষণ) প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রাণিখাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ৩০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার গবাদিপশু খাতে নারী, তরুণ ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক ঋণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে জামানতবিহীন বা স্বল্প জামানতে সহজ শর্তে ঋণ এবং ঝুঁকি কমাতে পশু বিমা চালুর উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এমএইচএইচ/এফএ