বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সংশোধন বিল ২০২৬ বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সংশোধন বিল ২০২৬’ উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিজ্ঞাপন
সংসদে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল ২০২৬ উত্থাপন করে তা অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ এর সংশোধনকল্পে আনীত বিলটি বিশেষ কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত আকারে মহান সংসদে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক।’
এ সময় বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ প্রস্তাব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমির ফারহানা। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব করলে কণ্ঠ ভোটে তা নাকচ হয়।
বিলে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি স্তম্ভ হচ্ছে বিমা খাত। অন্যান্য দেশে জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান যেখানে ৮ থেকে ১০ শতাংশ, বাংলাদেশে সেখানে মাত্র ০.৪ শতাংশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘এত বেশি সংখ্যক কোম্পানি থাকার পরেও আমাদের দেশের জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান এত কম, যেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বিমা খাতে দক্ষতা ও সুশাসনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এদেশের আপামর সাধারণ মানুষকে বিমা শিল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন একটি সেবা যা ঝুঁকি ভালো ব্যবস্থাপনা করে।’
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিমা শিল্প খুবই কঠিন একটি অবস্থা পার করছে। অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, ব্যাড গভর্নেন্স এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকগুলো ইনস্যুরেন্স কোম্পানি জন্ম হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইনস্যুরেন্সের পুরো সেক্টরটাকে নতুন করে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যেতে চাই। বিমা শিল্পকে ট্রান্সপারেন্ট করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এ সময় জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘আজ দুটি বিল পাস হয়েছে সংসদে। এই বিলগুলো কোনো সময়সীমার মধ্যে বন্দি নয়। আমরা তিনদিন আগে বা একদিন আগেও মেটেরিয়ালস পাইনি, এখন ডেস্কে এসে পেয়েছি… এই বিল দুটো স্থগিত করা উচিত।’
এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিধি ৮০ অনুযায়ী বিলটির রিপোর্ট আমাদের গতকাল দেওয়া হয়েছে। এটা স্পিকারের এখতিয়ার।’
পরে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। একইভাবে বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও নাকচ করা হয়।
এরপর বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয় এবং দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী না থাকায় ধারাগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
শেষে অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব দিলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
এমএইচএইচ/এফএ




