images

জাতীয়

ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণার আগেই বাসযাত্রীদের ‘পকেট কাটা’ শুরু!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

‎জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ভাড়া বাড়ানোর আলোচনার মধ্যেই রাজধানীর অনেক গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঘোষণা ছাড়া ভাড়া বাড়ানোর কারণে বাসে বাসে হচ্ছে তর্কবিতর্ক।

‎হেলপার-চালকরা বলছেন, জ্বালানি তেল বাড়তি দামে কিনছেন, এ কারণেই ভাড়া বাড়িয়েছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, গণপরিবহনগুলো ঘোষণার আগেই নিজেদের মতো ভাড়া বাড়িয়েছেন।

‎সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের প্রত্যেক স্টপেজ হিসেবে সর্বনিম্ন ৫ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করা হতে দেখা গেছে। এ হিসেবে দীর্ঘ যাত্রায় গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

‎তবে কিছু কিছু গণপরিবহন এখনো সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। তারা ভাড়াও নিচ্ছেন আগের মতোই।

‎কাকরাইল থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এতদিন ১৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করত রমজান নামের বাস। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই এই পথের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ টাকা।

‎দুপুরে মৎস ভবন মোড়ে ভাড়া আদায়ের সময় রমজান পরিবহনের যাত্রীদের সঙ্গে তর্কাতর্কিও হয়। কাকরাইল থেকে আসা একজন যাত্রীর কাছ থেকে মৎস ভবন পর্যন্ত ২০ টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ওই তর্কাতর্কি হয়।

‎কামাল হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, এতদিন ১৫ টাকা ভাড়া নিতো। এখন ২০ টাকা চাচ্ছে। তাও চেকিং নামে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

হঠাৎ রাজধানীতে গণপরিবহন সংকট, নেপথ্যে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা?

‎‎মহসিন নামের আরেক যাত্রী বলেন, কাকরাইল থেকে মৎস ভবন ৫ টাকা ভাড়া হতে পারে। তারপরও সর্বনিম্ন ভাড়া হিসেবে ১০ টাকা নিতে পারে। কিন্তু চেকিংয়ের উসিলায় তারা ১৫ টাকা নিতো, আজ ২০ টাকা চাচ্ছে। এটা ডাকাতি ছাড়া কিছুই নয়।

‎এদিকে, আজমেরি পরিবহন এতদিন মালিবাগ থেকে মহাখালী ভাড়া নিতো ১০/১৫ টাকা। কিন্তু এদিন সকাল থেকে ভাড়া নিচ্ছে ২০ টাকা। ৫ টাকা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে একই গন্তব্যের বলাকা পরিবহনও।

‎সরেজমিনে ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর  অধিকাংশ গণপরিবহনই  ঘোষণার আগেই ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। ‎তবে কোনো কোনো গণপরিবহন আগের মতোই ভাড়া নিচ্ছে। এরমধ্য রয়েছে গুলিস্তান-শাহবাগ-উত্তরা রুটের এয়ারপোর্ট পরিবহন। ‎গণপরিবহনটি শাহবাগ থেকে মহাখালী/বনানী ভাড়া ২০ টাকা আদায় করা হয়। সোমবারও গণপরিবহনটি একই ভাড়াই নিচ্ছে।

Bus2
রাজধানীতে রয়েছে পরিবহন সংকটও। ছবি: ঢাকা মেইল

‎জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট পরিবহনের হেলপার জুয়েল বলেন, ‘আমরা ভাড়া বাড়াইনি৷ সরকারের ঘোষণার পর বাড়াবো।’‎

‎একই কথা জানিয়েছে মিরপুর রুটের শেকড় পরিবহনও। বিআরটিসির বাসগুলোও আগের ভাড়া আদায় করছে।

‎মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সংকটে গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ‎ওইদিন রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

আরও পড়ুন

চালকদের মনোভাব এত বেপরোয়া কেন?

এতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে।

‎জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর তৎপরতা শুরু করে মালিকরা। দাম বাড়ার প্রথমদিনই রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বৈঠকে মালিকপক্ষের বাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‎এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে ওই সময় সরকারি সিদ্ধান্তে পরিবহন ভাড়াও বাড়ানো হয়। ‎ওই সময় দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২.২০ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

‎এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর নানা অজুহাতে পরিবহন মালিকরা বিভিন্ন সময় ভাড়া বাড়ানোর তৎপরতা চালিয়েছিল। কিন্ত আর ভাড়া বাড়ায়নি সরকার।

এএম/জেবি