জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর রাজধানীর সড়কে গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের। অনেকেই সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
বিজ্ঞাপন
গণপরিবহন না পেয়ে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে রিকশা, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করছেন। এতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় থাকা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো বাস পাইনি। সড়কে গণপরিবহন নেই বললেই চলে। সাভার যাব কীভাবে, তা বুঝতে পারছি না। সিএনজি গাবতলী পর্যন্ত যেতে চায়, ভাড়া চাচ্ছে ৩৫০ টাকা। গণপরিবহন না থাকায় অন্য যানবাহনগুলোও ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছে।
ধানমন্ডি থেকে পল্টনগামী যাত্রী রিফাত হাবীবের অভিযোগ, বাসমালিকরা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, সড়কে বাস কম, যেগুলো চলছে সেগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। অনেক বাস থামছে না, আবার কিছু বাস বেশি ভাড়া দাবি করছে।
এদিকে, মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি রুটে চলাচলকারী একটি বাসের শ্রমিক ওবায়দুল বলেন, তেলের দাম বাড়ায় অনেক বাস রাস্তায় নামছে না। মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। খরচ সামাল দিতে আমরা ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নিচ্ছি।
গুলিস্তান-সাভার রুটের এক পরিবহন শ্রমিক তুরুজ মিয়া বলেন, তেলের দাম বাড়ার কারণে খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিবহনমালিক বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির পর মালিকদের বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেউ ভাড়া না বাড়ালে ওই রুটে বাস চালাতে না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, পরিকল্পিতভাবে বাস কম নামিয়ে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একেএস/এআর




