images

জাতীয়

চাঁদা না পেয়ে গার্মেন্টস মালিককে গুলির ঘটনায় গ্রেফতার ৪

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে একটি পোশাক কারখানার মালিকের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেফতারকৃতরা এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- রানা (৩১), মো. সাগর শেখ (২৮), মো. কালু (২৮) ও শশী (২২)। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৪ এর মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধ্যায় ‘এ কে এম অ্যাপারেলস’ কারখানায় ১২-১৩ জনের একটি দল প্রবেশ করে মালিক কামরুল ইসলামের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই জন পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।’

ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা অফিসের লকার ভাঙচুর করে এবং তিন দিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে কামরুল ইসলামকে ‘মেরে ফেলার’ হুমকি দেয়। চলে যাওয়ার সময় তারা সিসি ক্যামেরার ডিভিআর ও হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী মালিক কাফরুল থানায় মামলা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা কে এন রায় নিয়তি বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার রানা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ঘটনার আগেই গার্মেন্টেসে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল, এখানে ভয় দেখালে মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া যাবে। এরপরই তারা অস্ত্রসহ মালিকের রুমে ঢুকে চাঁদা দাবি করেন।’

তিনি আরও জানান, গ্রেফতাররা মিরপুর ও কাফরুলসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদকের কারবার ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা নিয়মিত ছিনতাই, চুরি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

যে অস্ত্র থেকে গুলি করা হয়েছে, সেটি উদ্ধার হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে র‌্যাব-৪ এর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অভিযান এখনো অব্যাহত আছে। বাকি আসামিদের বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করছি না।’

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, মামলার পর থেকে এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এমআইকে/এমআই